ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে সীমান্ত হত্যা

প্রকাশিত: ০৫:২৩ এএম, ২৮ মার্চ ২০১৭

এক সময় প্রতিদিন কেউ না কেউ আটক হতো সীমান্তের ওপারে গরু আনতে গিয়ে। মাদক ও গরু চোরাচালান ছিল সীমান্ত এলাকার মানুষগুলোর প্রধান আয়ের পথ। ভারতে গিয়ে বিএসএফের হাতে কারো না কারো আটক হওয়ার ঘটনা ছিল স্বাভাবিক চিত্র।

রাতের সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়ে গত কয়েক বছর আগেও কাটা তারের পাশে পড়ে থাকতো মরদেহ। এখন ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকায় সেই দৃশ্য পাল্টে গেছে। গত আড়াই বছরে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ভারতীয় সীমান্তের ওপারে মানুষ এখন চোরাচালান বা গরু আনতে যায় না। এলাকার মানুষ এখন সচেতন হয়ে নিজেই আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। পাল্টে গেছে সীমান্ত এলাকার প্রেক্ষাপট।

tha

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত এলাকা ৪ হাজার ১০৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলায় ৬৫ কি.মি. সীমান্ত এলাকা রয়েছে। এ বিশাল সীমান্তে কোথাও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ভারতীয় কোনো নাগরিককে লক্ষ্য করে গুলি করেছে এমন নজির নেই। অথচ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কারণে অকারণে প্রতিনিয়তই গুলি চালিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করেছে।

বিজিবির তথ্য মতে, ২০০৭ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ২৫ জন বাংলাদেশি বিএসএফ এর গুলিতে প্রাণ হারায়। হতাহত হয় প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ। কিন্তু গত ৩ বছরে ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকায় কোনো প্রকার হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে বিজিবি ও এলাকাবাসী জানিয়েছে।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, আমি আগে সীমান্তের ওইপারে চোরাই পথে গরু আনতাম। এখন ওইপারে আমাদের গ্রামের কেউ যায় না। আমরা এখন নিজেরাই চাষাবাদ করি। এখন আর বিএসএফ এর গুলি খাওয়ার ভয় নেই। অনেক ভালো আছি পরিবার নিয়ে।

আরেক চাষি জয়নুল হক বলেন, বিজিবির উদ্যোগে আমরা পরিবারের সবাই চোরাচালন বন্ধ করে সৎভাবে বেঁচে থাকার লড়াই করছি। এখন নিজ জমিতে সবজি চাষ, গরু পালন ও মাছ চাষ করছি। ভারতে চোরাই পথে কেউ যায় না এখন।

tha

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গি উপজেলা চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম বলেন, আগে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান করতে গিয়ে অনেকের প্রাণ যেত। কিন্তু এখন আর কেউ চোরাচালান করে না। সীমান্ত এলাকায় কর্মসংস্থান না থাকায় চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছিল। এখন সীমান্ত এলাকার রাস্তা, স্কুল কলেজ, বিদ্যুৎ সংযোগের উন্নয়ন হয়েছে। তাই সবাই এখন নিজেরাই কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

ঠাকুরগাঁও ৩০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক তূষার বিন ইউনূস জানান, আমি যোগদানের পরে এই এলাকায় একজন চোরাচালান করতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে মারা যায়। দেখলাম এদের কর্মের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এরা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তাই তাদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আমরা তাদের সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করি।

এখন আর আগের মতো কেউ চোরাচালান করে না। যারা এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা কমবেশি সবাই এখন বিজিবি ও স্থানীয়দের সহায়তায় সঠিক পথে কর্ম করে সংসার চালাচ্ছে।

ভারতমুখী না হওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় মানুষ ও বিজিবির উদ্যোগে ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকার মানুষ এখন সচেতন।চোরাকারবারিরা অন্ধকার থেকে এখন আলোর পথে। তারা এখন নিজেই আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজের জমিতে কাজ করে, কেউ বা পশু পালন ও মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

এফএ/জেআইএম