ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দায়িত্ব নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মেয়র আরিফ ফের বরখাস্ত

প্রকাশিত: ১০:১৭ এএম, ০২ এপ্রিল ২০১৭

দীর্ঘ দুই বছর তিন মাস সাময়িক বরখাস্ত থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) মেয়রের চেয়ারে বসেন আরিফুল হক চৌধুরী। এর কয়েক ঘণ্টা পর জানা গেল তাকে আবারও সিসিকের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

দায়িত্ব নেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরী ফের সিসিকের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার খবরে নগরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন অ্যাক্ট উপসচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বক্ষরিত এক পত্রে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে একটি ফ্যাক্স বার্তা প্রেরণ করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র গত ২২ মার্চ আদালতে গৃহীত হয়েছে। সেহেতু সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে স্থানীয় সরকার বিভাগ আইনের ক্ষমতাবলে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

ওই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলাটি হচ্ছে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দিরাইয়ে একটি জনসভায় বোমা হামলার মামলা। ওই মামলায়ও আরিফুল হক চৌধুরী উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।

২০০৪ সালের ২১ জুন দুপুরে সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সভায় প্রধান অথিতি ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এ হামলায় এক যুবলীগ কর্মী নিহত এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ ২৯ জন আহত হন।

ঘটনার পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করে। প্রথমে পুলিশ পরে সিআইডি মামলার তদন্ত করে। গত বছরের ২০ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির হবিগঞ্জ জোনের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার বসু দত্ত চাকমা আরিফ ও হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জি কে গউছকে ঘটনার প্রায় ১২ বছর পর গ্রেফতারের আবেদন জানান আদালতে। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটে আরিফ-গউছসহ ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় আরিফ ও গউছকে। পরে চলতি বছরের ২২ মার্চ মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহিত হয়।

২০১৩ সালের ১৫ জুন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। নির্বাচনের দেড় বছরের মাথায় তিনি জড়িয়ে পড়েন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায়।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সিআইডির তৃতীয় সম্পূরক চার্জশিটে ওই মামলায় আসামি করা হয় তাকে। ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন আরিফ। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

কারাগারে যাওয়ার পরই হৃদ ও হাড়ের ক্ষয়রোগ আক্রান্ত হয়ে পড়েন আরিফ। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায়। সেখানে প্রায় ৬ মাস হাসপাতালে থেকে তার চিকিৎসা চলে।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারগারে আসার পরও কয়েক দফায় তিনি ভর্তি হন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মামলার নির্ধারিত তারিখে হুইল চেয়ারে বসিয়ে তাকে নিয়ে আসা হতো আদালতে। কিবরিয়া হত্যার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলার মামলায়।

এদিকে, কারান্তরীণ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এরপর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের পদ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ।

অবশেষে মামলার জালে আটকা পড়ে মেয়রের চেয়ারে বসা হয়নি কারও। আরিফের অনুপস্থিতিতে দুই বছরই শূন্য থাকে মেয়রের চেয়ার।

কিবরিয়া হত্যা ও সুরঞ্জিত সেনের জনসভায় বোমা হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত ৪টি মামলায় পর্যায়ক্রমে উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন আরিফ।

২ বছর ৪ দিন পর চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সবকয়টি মামলায় জামিনে মুক্ত হন তিনি। গত ১৩ মার্চ আরিফের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরখাস্তের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে গত ২৩ মার্চ হাইকোর্টের দেয়া আদেশই বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার নগর ভবনে গিয়ে ফের মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। নতুন করে তার দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে নগর ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফের বরখাস্ত হওয়ার পর তার কর্মী-সমর্থদের মধ্যে বিষাদের ছায়া নেমে আসে।

ছামির মাহমুদ/এএম/জেআইএম

আরও পড়ুন