ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪ হেক্টর জমির ধান

প্রকাশিত: ০৪:৩১ এএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৭

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রায় ৪ হেক্টর বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝলসে গেছে বসতবাড়ি এলাকার বাঁশঝাড়সহ ফলজ গাছের পাতা। চিলমারী ইউএনও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ভাটা মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রায় ৩৯ জন জমির মালিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছেন। কিন্তু ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ভাটা মালিকরা কোনো সাড়া না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, উপজেলার কলেজমোড় থেকে শরীফের হাট সড়কে রমনা ইউনিয়ন সীমানায় বেলেরতল নামক এলাকায় হাসান ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা ২০১১ সালে কার্যক্রম শুরু করে। জটিলতার কারণে ২০১২ সালে ভাটার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এরপর ২০১৬ সালে যৌথভাবে ইটভাটার কার্যক্রম শুরু হয়।

ভাটার চারদিকে আবাদি জমি এবং জনবসতি রয়েছে। এলাকার মানুষের আপত্তি সত্ত্বেও প্রভাবশালীদের চাপ ও অর্থ-বিত্তের জোরে এই ব্রিকসের কার্যক্রম চালানো হয়।

ভাটার কর্মচারী সাজু মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে ভাটাটিতে নতুন করে ইট পোড়ানোর কাজ শুরু হয়। চৈত্রমাসে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে গত সপ্তাহে ভাটার কার্যক্রম আবারও বন্ধ করা হয়। এসময় নিয়মানুযায়ী ইট পোড়ানো বন্ধের পর কমপক্ষে ৩ দিন মেশিন চালিয়ে ভাটার অভ্যন্তরের গ্যাস চিমনীর উপর দিয়ে নির্গমনের নিয়ম থাকলেও, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী মেশিন বন্ধ করে ওই দিন রাতে স্লাব খুলে নিচ দিয়ে ভাটার ভেতরের গ্যাস বের করে দেন। এরফলে বিষাক্ত গ্যাসের ধোঁয়ায় পার্শ্ববর্তী এলাকার বোরো ধান ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়।

হাসান ব্রিকসের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত পূর্ব মাচাবান্দা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক রাহেদা (৩৪) বলেন, আমার স্বামী দিনমজুর। ভাটা সংলগ্ন ৩০ এবং ৪২ শতকের দুটি জমির ধান দিয়ে আমাদের সংসার চলে। ইতোমধ্যে বোরো ধান আবাদ করতে গিয়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ করেছি। আশা করেছিলাম ৬০ মণ ধান পাবো। এখন আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।

একই এলাকার মানিক চন্দ্র বর্মণ, মোক্তার মিয়া, মিনু চন্দ্র ও নবিউল ইসলাম জানান, আমাদের জমিতে সদ্য বের হয়ে আসা বোরো ধানের শীষ বিষাক্ত গ্যাসে পুড়ে হলুদ রঙ ধারণ করেছে। এছাড়াও বাড়ির বাঁশঝাড়, আম, কাঁঠাল, জলপাইসহ একাধিক গাছের ফল ও ডালপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি অফিসার এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করছেন। ভাটার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করছে।

এদিকে হাসান ব্রিকসে কর্তব্যরত ম্যানেজার রবি মিয়া জানান, ৫ থেকে ৬ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ভাটার কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে যৌথ মালিক ৫ জন। এরা হলেন, আজিজ ব্যাপারী, আব্দুল বারী, মনোয়ার হোসেন বাদল, নজরুল ও বদরুল। এছাড়াও ব্রিকসের মূল মালিক হাসানের বড় ভাই বোরহান ও লিটন ভাটার কাজ দেখভাল করে। ক্ষতিগ্রস্তদের কী করা হবে তা জানেন না বলে সাফ জানান তিনি।

ভাটার মালিক পক্ষের লোক বোরহান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দাবি করেন তাদের কাছে ভাটার বৈধ কাগজপত্র আছে। কিন্তু কাগজ দেখতে চাইলে তিনি সটকে পড়েন।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়ায় ধানশীষের ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৩৯ জন। প্রায় ৪ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে সনাক্ত করা গেছে। কৃষকদের ক্ষতিপূরণে মালিক পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর্জা মুরাদ হাসান বেগ জানান, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষি বিভাগ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। মালিক পক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। অন্যথা আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাজমুল হোসেন/এফএ/এমএস