ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সেন্টমার্টিনে বাসযোগ্য নীতিমালার দাবি অধিবাসীদের

প্রকাশিত: ০৬:৪৩ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৭

স্বাধীন দেশের নাগরিক হলেও পরাধীন শরণার্থীর মতোই জীবন কাটাতে হচ্ছে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নবাসীকে। সেন্টমার্টিনে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ হওয়ায় এখানকার অধিবাসীরা নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারছে না। এ পরিস্থিতির জন্য অর্থলোভী পর্যটন ব্যবসায়ীরা দায়ী বলে দাবি করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ।

তিনি বলেন, দ্বীপ হিসেবে ইকোলজিক্যাল ক্রিটিকেল এরিয়া (ইসিএ) হওয়ায় পরিবেশ সংশ্লিষ্ট জিও-এনজিও নানা প্রতিষ্ঠান ভেঙে যাওয়া ঘর মেরামত কিংবা একটি টয়লেট করতে গেলেও বাধা দেয়া হয়। এখানকার অধিবাসীদের হয়রানিমুক্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে একটি নীতিমালা করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন দ্বীপ ইউনিয়নের এ চেয়ারম্যান।

সেন্টমার্টিনে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা ৩৮টি আবাসিক হোটেল ভাঙতে পরিবেশ অধিদফতরের দেয়া সাম্প্রতিক নির্দেশনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসব কথা বলেছেন।

আগামী ২০ মের মধ্যে হোটেল মালিক পক্ষকে নিজ দায়িত্বে নির্ধারিত হোটেলগুলো ভেঙে তা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে পরিবেশ অধিদফতরের নোটিশে।

পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জাহানারা ইয়াসমিন তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সেন্টমার্টিনে অবৈধভাবে গড়ে উঠা কটেজসহ ১০৪টি আবাসিক হোটেলের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন তলা, দোতলা ও এক তলার ৩৮টি আবাসিক হোটল ভাঙার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদি হোটেল মালিকপক্ষ নির্ধারিত তারিখের মধ্যে হোটেল ভেঙে সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনই তা ভেঙে দেবে।

হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে-ব্লো-মেরিন, ফ্যান্টাসি, অবকাশ পর্যটন লিমিটেড, লাবিবা বিলাস, সেন্ডশোর, প্রসাদ প্যারাডাইস, প্রিন্স হেভেন, স্বপ্ন বিলাস, সেভেন স্টার, ব্লু-সি ইস্টান রির্সোট, সি ইন, ডাক বাংলা, ওশান ব্লু, সি ভিউ, সি প্রবাল, সি টি বি ও এস কে ডিস অন্যতম।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আমরাও চাই পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হউক। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আইন মানা সবার কর্তব্য। আবার নাগরিক অধিকারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেভাবে বলতে গেলে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার নাগরিক প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। পর্যটন স্পট হওয়ায় চরম প্রতিবন্ধকতায় কাটছে এখানকার নাগরিক জীবন।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে ৮৮টি হোটেল-কটেজ রয়েছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতর বলছে এখানে আবাসিক হোটেল ১০৪টি ।

নুর আহমদ বলেন, পর্যটন সেবা দিতে অনেক পরিবার নিজের মালিকানাধীন জমিতে পরিবার সদস্যদের আবাসান ছাড়াও আলাদা টিনশেট ঘরে কয়েকটি কক্ষ তৈরি করেছে। পর্যটন মৌসুমে এসব কক্ষগুলো ভাড়া দিয়ে পুরো বছর চলে একেকটি পরিবার।

অপরদিকে, সরকারি জমি লিজ কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি কিনে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্থলোভী অনেকে বহুতল ভবন করে দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি করছে। এদের কারণে পুরো দ্বীপের মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।তাই দ্বীপবাসীর জীবনাচরণের জন্য আইন সম্মতভাবে একটি নীতিমালা করে দেয়া হউক।

সম্প্রতি সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র ধ্বংসের বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেন্টমার্টিনে শতাধিক হোটেল-মোটেলসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন সেন্টমার্টিন দ্বীপের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে তদন্ত কমিটি গঠনসহ নানা সুপারিশ করা হয়।

এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২১ মার্চ ৪ সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। রুলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।

এছাড়াও, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথের বিষয়টি তদন্তে নৌপরিবহন অধিদফতরের কমিটি গঠন, নৌপথে অত্যাধুনিক বাতি বয়া বসানোর উদ্যোগ ও অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়। দ্বীপের জীববৈচিত্র্য পুনর্গঠনে সেন্টমার্টিনে তিন বছরের জন্য সাময়িকভাবে পর্যটন বন্ধ রাখার সুপারিশ করে পরিবেশ অধিদফতর।

দ্বীপের বহুতল ভবনগুলো ছাড়া বাকি স্থাপনা অবৈধ বলে মানতে নারাজ সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, আমরা আদালত ও সরকারের সিদ্ধান্তকে সব সময় শ্রদ্ধা করি। আমাদের সংগঠনভুক্ত আবাসিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫৫টি। দ্বীপে যারা বাস করেন সবাই পৈত্রিক খতিয়ানভুক্ত জমিতেই কাঁচা বা সেমিপাকা ঘর করেছেন। এখানে ইটবালি আনতে গেলে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়। বহুতল ছাড়া বাকিগুলো প্রশাসনের অনুমতিতেই হয়েছে। দ্বীপে বাস করতে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা না করা পর্যন্ত ধোঁয়াশা কাটবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের একটি চিঠি টেকনাফ উপজেলায় গেছে বলে জেনেছি। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরএআর/পিআর