ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘চাল নিলে তারপরই খাওয়া হইব’

প্রকাশিত: ০৭:৫৯ এএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৭

‘ফজরের নামাজের পর থাকি ২২ দিনের শিশুকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখন চাল পর্যন্ত পাইনি। আল্লাহই জানেন চাল নিয়ে বাড়িতে যাইতাম পারমু কিনা। পেটেও ক্ষুধা লাগছে, বাচ্চাটিও কান্নাকাটি করছে দুধের জন্য। বাড়িতে থাকা অসুস্থ স্বামীও না খেয়ে পথ চেয়ে বসে আছেন। চাল নিলে তারপরই খাওয়া হইব। ইলা অইলে আমরা বাঁচতাম কিলা।’

ভাঙা বুকে আর ক্ষুধার্ত মুখে খোলাবাজারে চাল বিক্রি কেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন রিপিনা বেগম (৩০)। সুনামগঞ্জ জেলা সদর উপজেলার বাদরপুর (জুনিগাঁও) গ্রামের ঝুমুর ইসলামের স্ত্রী তিনি। জেলা তথ্য অফিসের সামনে একটি চাল বিক্রির কেন্দ্রে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কথা হয় তার সঙ্গে।

একইভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাল পাচ্ছেন না ৮০ বছরের বয়োবৃদ্ধা শহরের সাহেববাড়ি ঘাট এলাকার চাঁনবদন, জলিলপুর গ্রামের ৬৫ বছরের বয়োবৃদ্ধা তারাবানু, শহরের কেবি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র জামিরুলসহ দরিদ্র মানুষেরা।

ওয়ায়েজখালী এলাকার কাশেম আলীর ছেলে মুকিত বাদশার (১৭) বলেন, ওয়ায়েজখালী ৯নং ওয়ার্ডের বিক্রয়কেন্দ্রে চাল নাই তাই বাধ্য হয়ে এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। কখন চাল নিয়ে বাড়ি ফিরি আল্লাহই জানেন।

প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ১৪২টি হাওরে ফসলহানির পর ১০ এপ্রিল থেকে ১৫ টাকা কেজি ধরে খোলাবাজারে চাল বিক্রির কর্মসূচি শুরু হয়। প্রতিদিন একজন ৫ কেজি চাল ক্রয় করতে পারবেন। ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, চাহিদার চেয়ে বিক্রয়কেন্দ্র কম থাকায় প্রতিনিয়ত খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে এসব অসহায় মানুষদের। সরকারি হিসাব মতে অসময়ে ফসল হারিয়ে জেলার প্রায় তিন লাখ কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬৯টি বিক্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা সদরে তিনটি করে ৩৩টি এবং জেলার চারটি পৌরসভায় নয়টি করে আরও ৩৬টি বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আল-হেলাল বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির মতবিনিময় সভাসহ বিভিন্ন সভায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কেন্দ্র খোলা ও চালের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য জোর দাবি জানিয়েছিলাম। এর বাস্তবায়ন না হলে কৃষকরা লাভবান হবেন না।

তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কালাম বলেন, অকালে ফসল হারিয়ে স্বচ্ছল কৃষকের অবস্থাও ভালো নয়। সামাজিক অবস্থার কথা চিন্তা করে অনেকেই লাইনে দাঁড়াতে পারছেন না। যদি ওয়ার্ড পর্যায়ে কেন্দ্র হয় তাহলে এই চাল সংগ্রহ করতে পারতেন এসব কৃষক পরিবার।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, বিক্রয়কেন্দ্র বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক, আমরা চেষ্টা করছি। আশা করি দ্রুত মন্ত্রণালয় থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।

তিনি জানান, ফসলহারা মানুষের জন্য শুধু যে খোলাবাজারে কম দামে চাল বিক্রি হচ্ছে সেটা নয়। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মধ্যে সরকারি সহায়তা হিসেবে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। সুনামগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ৯১ হাজার ৯৫০টি পরিবার ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল কিনতে পারে।

এটি এ মাসেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুনামগঞ্জে এ কর্মসূচি আগামী বোরো ফসল তোলার আগ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া এবং পরিবারের সংখ্যা তিন গুণ করার প্রস্তাব দেন। সেইসঙ্গে দুই লাখ পরিবারের পাওয়া ভিজিএফ সেটিও অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

এফএ/পিআর