ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এক কেজি চিংড়িতে মিলল ২৫০ গ্রাম বিষাক্ত জেলি!

প্রকাশিত: ১১:৩১ এএম, ০৯ মে ২০১৭

চিংড়ির ওজন বাড়াতে ইনজেকশন দিয়ে বিষাক্ত জেলি ঢুকানো হচ্ছে। চিংড়ির গায়ের রঙের এসব জেলি সহজে বোঝা না যাওয়ায় ঠকছেন ক্রেতারা।

মঙ্গলবার বগুড়ার মাছ বাজারে প্রতিকেজি বড় সাইজের চিংড়িতে সর্বোচ্চ ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত জেলির অস্তিত্ব মিলেছে। ক্ষতিকর এই জেলির সিজারিয়ান অপারেশনের পর রোগীর ক্ষত ঢাকতে ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া স্থানীয়ভাবে আগার পাউডার, ভাতের মাড় ও আটা মিশিয়েও এই জেলি তৈরি করা হয়। যা কোনোভাবে মানবদেহে প্রবেশ করলে পেটের গুরুতর সমস্যা ছাড়াও হৃদযন্ত্র, কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া পাইকারি মাছের বাজার চাষি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। সেখানে ব্যবসায়ী আব্দুল খালেকের ৫০ কেজি চিংড়িসহ হাবিবুর রহমান, হাবিল ও আব্দুল বারী নামের চারজন ব্যবসায়ীর মোট ৬০ কেজি জেলিমিশ্রিত বিষাক্ত চিংড়ি জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সদস্যদের নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাশ্বের আলী এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে বিষাক্ত চিংড়ি বিক্রির অপরাধে ৪ ব্যবসায়ির ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

chingri

এ সময় সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (সদর) মিজানুর রহমান ও পৌরসভার স্যানেটারি ইন্সপেক্টর শাহ আলী খান উপস্থিত ছিলেন।

বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে জানা যায়, মূলত একটু বড় আকারের চিংড়িতে সিরিঞ্জে ভরে এই জেলি ব্যবহার করা হয়। এতে করে মাছের সাইজ আরও বড় হয়ে যায়। দেখতে মোটা লাগে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চিংড়ি ব্যবহৃত এই জেলি সিজারিয়ান অপারেশনের পর রোগীর ক্ষত ঢাকতে ব্যবহার করা হয়। যা সিলিকন জেল নামে পরিচিত। কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যে কেউ এগুলো কিনতে পারে। ইদানিং মাছের বাজারে গলদা চিংড়ির বেশ আমদানি। অনেকটা কম দামেই বিক্রি করা হচ্ছে মোটাতাজা চিংড়ি। কম দামে বিক্রির কারণ জেলি দিয়ে ছোট মাছকেও তড়িৎ বড় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাশ্বের আলী বলেন, আমরা এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। এরা নিজেরা জেলি না মেশালেও জেলি মিশ্রণের তথ্য জানার পরেও সেটি বাজারে বিক্রি করছে। এটিই তাদের অপরাধ। আগামীতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

লিমন বাসার/এএম/পিআর

আরও পড়ুন