হবিগঞ্জে কুশিয়ারা নদী থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলন
হবিগঞ্জে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছেনা। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি চক্র।
এদিকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে মারাত্মকভাবে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে আশপাশের অন্তত ৭/৮টি গ্রাম। এতে দিনে দিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ড্রেজার জব্দ করলেও বালু উত্তোলন দমানো যাচ্ছেনা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জেলার নবীগঞ্জ, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে খরস্রোতা কুশিয়ারা নদী। এ নদীটি ৩টি উপজেলার বাসিন্দাদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে আছে যুগযুগ ধরে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নবীগঞ্জ উপজেলার পারকুল ও পাহাড়পুর গ্রামের কাছে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে চলেছে। অথচ বালু উত্তোলনের জন্য তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্রও নেই। এমন বেপরোয়া বালু উত্তোলনের ফলে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে পাহাড়পুর, পারকুল, বনগাঁও, ঢালারপাড়, কুমারকাদারসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।
ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশত একর জমি। সম্প্রতি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে প্রশাসন পাহাড়পুর এলাকায় অভিযানে নামে। এসময় ৩টি ড্রেজার, বালু পরিবহনের ২টি কার্গো, কয়েকশ গজ পাইপ ও প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের বালু জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আটক বালু, কার্গো ও ড্রেজার নিজের জিম্মায় আছে বলে জানান জেলা পরিষদ সদস্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় সময়ই তারা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে আপত্তি জানান। কিন্তু কেউ তাদের কথা শোনেনা। উল্টো তাদেরকে হুমকি ধামকি দেয়। এ অবস্থায় নদীর তীর ভেঙে ইতোমধ্যেই তাদের জমিজমা বিলিন হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে খুব তাড়াতাড়ি তাদের বাড়ি-ঘরও নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।
জব্দকৃত বালু, ড্রেজার ও কার্গোর জিম্মাদার জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল মতিন আছাব জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার, কার্গো ও বালু জব্দ করেছেন। এগুলো তার জিম্মায় দেয়া হয়েছে। তিনি একজন পাহারাদার নিয়োগ করে রেখেছেন এগুলো দেখাশুনা করার জন্য। তাকে এবং পাহারাদারকে কতিপয় দুর্বৃত্ত হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন। নদী তীরবর্তী বাড়ি-ঘর রক্ষায় এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিনা সারোয়ার জানান, বিভিন্ন সময়ই কতিপয় দুষ্কৃতিকারী নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে। খবর পেয়ে তিনি সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে ড্রেজার, কার্গো ও বালু জব্দ করেছেন। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এমএএস/আরআইপি
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক বিতরণ
- ২ ‘বাপু, গণভোট আবার কী? আজই প্রথম শুনলাম’
- ৩ মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য ও প্রসাধনী বিক্রি, ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
- ৪ নির্ধারিত সময়ের আগে ভোটের প্রচারণা, বিএনপির প্রার্থীকে শোকজ
- ৫ রাজনৈতিক ও নির্বাচনি পরিবেশ কলুষিত হয়ে পড়েছে: বদিউল আলম মজুমদার