৪০ হাজার টাকা হলেই বেঁচে যাবেন ধাত্রী মা
ফুটফুটে সন্তান প্রসব হয়ে দুনিয়ার আলো দেখবে এই আশায় যে ধাত্রী মা গভীর রাতেও হাওরের আফাল-ঢেউ উপেক্ষা করে ছুটে চলতেন এগ্রাম থেকে ওগ্রামে সেই মা আজ ভালো নেই। বয়স তাকে কাবু করতে না পারলেও নানা রোগ ব্যাধির কাছে আজ তিনি পরাজিতপ্রায়।
বিগত ৬ মাস ধরে ধাত্রী মায়ের শরীরে বাসা বেধেছে ডায়াবেটিকস, উচ্চ রক্তচাপ, প্যারালাইসিসসহ নানা রোগ ব্যাধি। অবহেলিত হাওরপাড়ের এই মানবসেবক যেন বিনা চিকিৎসায় প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছেন আজ।
‘ধাত্রী মা’ আমিনা বেগমের (৬৮) বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের তরং গ্রামে। ওই গ্রামের দিনমজুর মোক্তার আলী আখঞ্জির স্ত্রী তিনি। ৬ সন্তানের জননী আমিনা বেগম টানাপোড়েনের সংসারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও আজ অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সন্তান প্রসবের খবরে জাত-ধর্ম ভুলে মধ্যরাতেও দেবদূত হয়ে যিনি হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামে ছুটে চলতেন তিনি এই আমিনা বেগম। মানবসেবায় অনন্য ভূমিকা রাখায় হাওরবাসী তাকে ধাত্রী মা নামেই চেনেন।
20170610133750.jpg)
শুক্রবার দুপুরে অসহায় এই ধাত্রী মায়ের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। সাংবাদিক পরিচয় জেনে বুকে জড়িয়ে ধরে কাতরকণ্ঠে বলেন- “বাবারে বিনা চিকিৎসায় আমি মরতে চাই না, ধাত্রী মা ডাক শুনতে আমি আরও কয়েকটা দিন বাঁচতে চাই। আমি মরলে ভাঙা ঘরের ভাঙা দরজায় ঠক ঠক করে গভীররাতে কে বলবে- ধাত্রী মা সজাগ আছেননি। আমারে চিকিৎসার ব্যবস্থা কইরা দেউ বাবা”।
জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে হঠ্যাৎ করে নিজের ঘরে মাটিতে পড়ে যান ধাত্রী মা। পরে স্থানীয় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেন তিনি। অবস্থা বেগতিক হলে পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।
সিটিস্ক্যান, থ্যারাপিসহ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে অন্তত ৪০ হাজার টাকা লাগবে। অর্থাভাবে সেই থেকে স্বামীর ভাঙা ঘরের ভাঙাভিটায় রোগে কাতরাচ্ছেন ধাত্রী মা।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাজেরা বেগম বলেন, মানবসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়ায় হাওরবাসীর কাছে তিনি ধাত্রী মা হিসেবে পরিচিত। তার শেখানো পথে আমিও হাঁটছি। দেশের হৃদয়বানদের কাছে ধাত্রী মায়ের চিকিৎসায় সহযোগিতা করার জন্য আকুল আবেদন জানাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী হোসেন বলেন, আমিনা বেগম অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করতে পারছেন না। অভাবের সংসারে অনেক সময় উপোষও থাকতে হচ্ছে এই ধাত্রী মাসহ পরিবারের সদস্যদের। দেশের হৃদয়বান ব্যক্তিরা তার চিকিসায় এগিয়ে আসবেন এমন প্রতাশা এই জন প্রতিনিধিরও।
এফএ/জেআইএম