ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

অর্ধশত শহীদ পরিবারের কেউ পাননি স্বীকৃতি

প্রকাশিত: ০৯:০৬ এএম, ১৭ মে ২০১৫

১৭ মে ঝালকাঠির রাজাপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত কাঠিপাড়া গ্রামে হত্যাযজ্ঞ চালান পাকহানাদার ও তাদের স্থানীয় দোসররা। গুলি করে হত্যা করেন শতশত নারী পুরুষকে। স্থানীয়রা ২০১০ সালের মার্চ মাসে মাটি খুঁড়তে গিয়ে অর্ধশত কঙ্কাল পান ওই গ্রামে। খবরটি সংবাদপত্রে প্রকাশের পর দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

তবে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হলেও ওই গণহত্যার শিকার কোন শহীদ পরিবারের কপালেই জোটেনি স্বীকৃতি। নির্মিত হয়নি শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে কোন বধ্যভূমি।

কাঠিপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ১৯৭১ সালের ১৭ মে পাকহানাদার ও স্থানীয় দোসররা কাঠিপাড়ার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় হত্যাযজ্ঞ শুরু করেন। উপায় না দেখে প্রাণ বাঁচাতে আশপাশের ৫টি গ্রামের শতশত সংখ্যালঘুরা ওইদিন ঠাকুরবাড়ির জঙ্গলে আশ্রয় নেন। স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকহানাদাররা ওই জঙ্গল ঘেরাও করে নির্বিচারে হত্যা করেন শতশত নীরিহ নারী পুরুষদের। দুইদিন পর স্থানীয়রা একটি গর্ত করে সব মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।

২০১০ সালের মার্চ মাসে জঙ্গলের মাটি খুঁড়তে গিয়ে একে একে বের হয়ে আসে অর্ধশত কঙ্কাল। তখন আবিষ্কৃত হয় এই বধ্যভূমিটি। এরপর আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনাল ছুটে যায় ওই এলাকায়। উদ্ধারকৃত কঙ্কালগুলো ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তবে এরপর আর শহীদ পরিবারগুলোর কেউ খোঁজ রাখেননি। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হয়ে গেলেও অর্ধশত শহীদ পরিবারের কেউ কোন সরকারি সহযোগিতাতো দূরের কথা পাননি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি পর্যন্ত।
 
অপরদিকে শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। জঙ্গলে ঘেরা ওই জায়গায় একটি জরাজীর্ণ নামফলক ছাড়া আর কিছুই নেই সেখানে। শহীদ পরিবারের সদস্য শান্তিরঞ্জন বলেন, শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি না পেলেও স্বজনহারা বেদনা ঘোঁচার জন্য এখানে একটি বধ্যভূমি নির্মাণ করে শহীদদের নামের তালিকা দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ আলম নান্নু জাগো নিউজকে বলেন, আমরা শহীদ পরিবারের নামের তালিকা একাধিকবার করলেও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে এখন পর্যন্ত শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি মেলেনি। যা দেশ তথা জাতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম সাদিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বীর শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে বধ্যভূমি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে লিখিতভাবে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে বরাদ্দ পেলে বধ্যভূমি নির্মাণ করা হবে। আর শহীদ পরিবারের নামের তালিকাও পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

এমজেড/এমএস