কমছে খোয়াই নদীর পানি, কাটেনি আতঙ্ক
খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার পর থেকেই পানি কমতে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় নদীর পানি বিপদসীমার ২৮০ থেকে নেমে ২৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিন ঘণ্টায় কমেছে মাত্র ২০ সেন্টিমিটার পানি। কিন্তু পানি কমতে শুরু করলেও শহরবাসীর মাঝে আতঙ্ক কাটেনি।
এদিকে হবিগঞ্জ শহর ও শহরতলী এলাকার তিনটি স্থানে নদীর বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা দেখা দিলে সোমবার রাত থেকেই স্থানীয় লোকজন সেখানে বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর থেকেই খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। ওই দিন ইফতারের পর বিভিন্ন স্থানে নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ চুইয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। রাত সাড়ে ৮টায় বন্যার পানি প্রবেশ করছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে অনেক মুসল্লিই তারাবি নামাজ ফেলে বাসায় ছুটে যান জানমাল রক্ষার জন্য। গভীর রাতে প্রশাসন ভাটি এলাকার একাধিক স্থানে বাঁধ কাটতে গেলে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে বাঁধা দেয়।
জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম জানান, বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুরে নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় শহরের প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর থেকে ঝুঁকি কিছুটা কমেছে।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় হবিগঞ্জ প্রান্থে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ২৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অপরদিকে উজানের বাল্লা সীমান্তে নদীর পানি হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
হবিগঞ্জ শহরে ২০ কিলোমিটার জুড়ে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ রয়েছে। যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে এ আশঙ্কায় শহরে মাইকিং করছে প্রশাসন। এছাড়া মসজিদের মাইকে বালুর বস্তা নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আসার জন্য আহ্বান জানানো হয়। আতঙ্কগ্রস্থ অনেকেই রাতভর নদীর পাড়ে সময় কাটান। কেউ কেউ ফেসবুকে নদীর বাঁধ না ভাঙার জন্য দোয়া চান।
সোমবার রাত থেকেই শহর এলাকার কামড়াপুর ও শহরতলীর মাছুলিয়া, তেতৈইয়া এলাকায় বাঁধ চুইয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকলে সেখানে বালুর বস্তা ফেলা শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হবিগঞ্জ পৌরসভার দানিয়ালপুর এলাকায় নদীর বাঁধের অভ্যন্তরে বসবাসকারী প্রায় ১৫০টি বাড়ি ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করে। আতঙ্কে নদীর দুই তীরের বাসিন্দাদের অনেকেই বাড়িঘর থেকে মালামাল সরিয়ে নেন। আবার অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দেন।
মঙ্গলবার তেতৈইয়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি পরিবার বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। গৃহবধূ করিমুন্নেছা জানান, তার বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করায় বাঁধে অবস্থান নিয়েছেন।
বন্যার পানি বাঁধ উপচে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ায় পাউবোর প্রধান প্রকৌশলী কেএম আনোয়ার হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এসএম শহীদুল ইসলাম ও নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলামের উপস্থিতিতে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বালুর বস্তা ফেলা হয়।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম জানান, বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। তবুও যেসব এলাকায় বাঁধ চুইয়ে পানি প্রবেশ করছে, সেসব এলাকায় বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, উজানে বৃষ্টি থেমেছে বলে শুনেছি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খোয়াই নদীতে বন্যার পানি কমতে পারে।
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/আরএআর/এমএস