ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জয়পুরহাটে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি

প্রকাশিত: ০৩:৫৯ এএম, ২৮ মে ২০১৫

জয়পুরহাটের ৫টি উপজেলার উপর দিয়ে গত শনিবার বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল, রাস্তা ও বাগানের ফলজ ও বনজ গাছপালা, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভেঙে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।  

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮ হাজার ৫৩০ টি বাড়িঘর, ৬ হাজার ৮৬০ টি পরিবার ও ২৭ হাজার ৬৮২ জন লোক, ৪২ হাজার ৪৫০ টি গাছপালা, ৫ টি গবাদিপশু। এছাড়া এতে ১ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন।

জয়পুরহাটের ৫টি উপজেলা ও পৌরসভার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জয়পুরহাট পৌরসভা, জয়পুরহাট সদর উপজেলা এবং পাঁচবিবি উপজেলা। এরমধ্যে জয়পুরহাট পৌরসভায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৭৭০ টি বাড়িঘর, ২ হাজার ৭৭০টি পরিবার, ২ টি প্রতিষ্ঠান, ১০ হাজার ৮৩২ জন মানুষ এবং ১২ হাজার গাছপালা। জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ২২০ টি পরিবার, ১ হাজার ২২০টি বাড়িঘর, ১৭ টি প্রতিষ্ঠান, ৫ হাজার লোক, ১০ হাজার গাছপাল। এছাড়া এখানে ১ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন এবং পাঁচবিবি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৫০ টি পরিবার, ২ হাজার ৮৫ টি বাড়িঘর, ৩৬ টি প্রতিষ্ঠান, ৬ হাজার লোক,  ৮ হাজার ২৫০ টি গাছপালা, ৫টি গবাদিপশু। এছাড়া এখানে আহত হয়েছেন ২ জন।

উল্লেখ্য শনিবার গভীর রাতে আধা ঘণ্টার ঘূর্ণিঝড়ে সমস্ত জেলায় এক ভয়াবহ তাণ্ডব সংঘটিত হয়। এ তাণ্ডবে জয়পুরহাট পৌরসভার হারাইল এলাকায় দেওয়াল চাপা পড়ে গাইবান্ধা জেলার জাহিদুল ইসলাম নামে এক হোটেল শ্রমিক নিহত হন। এসময় তার ভগ্নিপতি আবুল কাশেমসহ উপজেলার আরো ৩ জন আহত হন । বর্তমানে তারা জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বিস্তৃর্ণ এলাকার মাঠের পাকা বোরো ধান, ভুট্টা, পাট, সবজিসহ অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন দফতর থেকে প্রদানকৃত তথ্যের ভিত্তিতে জেলায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঝড়ে পল্লি বিদ্যুৎ ও পিডিবির দুই শতাধিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় এখনো পুরোপুরিভাবে পুরো জেলার বিভিন্ন এলাকায়  বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

জয়পুরহাট বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল হাসান ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী আব্দুল কুদ্দুস জানান, বিভিন্ন জায়গায় গাছ ও ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ পুল পড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে দ্রুত  এর সমাধান করতে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি।

জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আব্দুর রহিম জানান, শনিবারের ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে উপজেলাভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ ও নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে এবং আরো ত্রাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে।

এসএস/পিআর