ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পাহাড় বদলে দিতে পারে সামার বারি-৮ টমেটো

জেলা প্রতিনিধি | খাগড়াছড়ি | প্রকাশিত: ১০:৪০ এএম, ৩০ জুলাই ২০১৭

টমেটো সাধারণত শীতকালীন সবজি হলেও খাগড়াছড়িতে গ্রীষ্মকালেও টমেটো চাষের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে একদিকে যেমন গ্রীষ্মকালে বাজারে টমেটোর সঙ্কট কাটবে তেমনি কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

এমনটাই মনে করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের মতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে উদ্ভাবিত সামার বারি-৮ টমেটো পাহাড়ি ভূমিতে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। কৃষকদের মাঝে এ সম্ভাবনাকে ছড়িয়ে দিতে ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে সামার বারি-৮ জাতের টমোটোর পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, বাঁশের খুঁটি, বেড়া এবং প্ল্যাস্টিকের সেডের নিচে প্রায় ১ শতক জায়গাজুড়ে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর বাগান। পরিপূর্ণ গাছগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল-সবুজ রঙের টমেটো। প্রতিটি গাছে ঝুলছে অন্তত ৪/৫ কেজি টমেটো। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ফুলে-ফলে শোভিত থাকে এ টমেটো বাগান।

সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকতারা জানান, গ্রীষ্মকালে বাজারে সবজির সঙ্কট থাকায় কৃষকেরা বারি-৮ টমেটো চাষে বেশ লাভবান হবেন।

Khagrachari

খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুন্সী রশীদ আহমেদ বলেন, সামার বারি-৮ টমেটো পাহাড়ের নতুন সম্ভাবনাময় ফসল। পাহাড়ে ছড়ার পাড় কিংবা নদীর পাড়ের জমিতে এটি চাষাবাদ করা হলে ভালো ফসল পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাছাড়া পাহাড়ি উপত্যকার সমতল ভূমিতেও বারি-টমেটো চাষ করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত এপ্রিলে বীজ থেকে চারা হওয়ার পর মে মাসে তা রোপণ করা হয়। যা জুন-আগস্ট পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে শীতকাল ছাড়া বাকি সময় টমেটো হিমাঘর থেকে সরবরাহ করা হয়। ফলে এর স্বাদ এবং গুণগত মান দুটোই কম থাকে। অন্যদিকে বারি-৮ টমেটো গ্রীষ্মকালীন টমেটো হিসেবে বেশ সুস্বাদু এবং গুণগত মান বজায় থাকে।

খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, ১ শতক জমিতে প্রায় ৮০টি চারা রোপণ করে প্রতিটি গাছ থেকে ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। তার মতে প্রতি শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন বারি-৮ টমেটো চাষে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে প্রতি শতক জমি থেকে প্রায় ৩০/৩৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।

আগামী মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে গ্রীষ্মকালীন বারি-৪ টমেটোর বীজ বিতরণ করা হবে বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুন্সী রশীদ আহমেদ।

এ জাতের টমেটো চাষের সম্প্রসারণ করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যে দেশে টমেটোর চাহিদার সিংহভাগ যোগান দেয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তিনি।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এমএএস/পিআর