ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় নতুন করে আরও ১২ গ্রাম প্লাবিত

জেলা প্রতিনিধি | গাইবান্ধা | প্রকাশিত: ১২:২২ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৭

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের সালাইপুর গ্রামের ঘাঘট নদীর বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্রায় ১২টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

সেই সঙ্গে ভেসে গেছে পুকুর ও মৎস্য চাষ প্রকল্পের মাছ। তলিয়ে গেছে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসল ও শাকসবজির খেত। ফলে পানি এসে চাপ পড়ছে গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর সড়কে।

ইতোমধ্যে সদর উপজেলার বল্লমঝাঁড় ইউনিয়নের কাজলঢোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ফলে নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে নতুন গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন সালাইপুর গ্রাম। ঘাঘট নদীর কাজলঢোপ ফোরকানিয়া গ্রাম থেকে বাঁধের ওপর দিয়ে এই গ্রামে যেতে হয়।

এই বাঁধটির প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকার অসংখ্য স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। তিন বছর আগে ঘাঘট নদীর প্রবল পানির চাপে বাঁধটির সালাইপুর গ্রামের প্রায় ৫০ ফুট অংশ ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা ব্যক্তিগতভাবে নির্মিত বাঁশের খুঁটির ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

বাঁধের ভাঙা ওই অংশটি দিয়ে বুধবার রাত থেকে পানি ঢুকে ইতোমধ্যে বনগ্রাম ইউনিয়নের সালাইপুর, মন্দুয়ার, দক্ষিণ মন্দুয়ার, গড়ের মাঠ, জয়েনপুর, বল্লমঝাঁড় ইউনিয়নের বড় গয়েশপুর, চক গয়েশপুর, কাজলঢোপ গ্রামের স্কুল, রাস্তা-ঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিবছর বন্যায় ভেঙে যাওয়া এই অংশ দিয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ও সদর উপজেলার বল্লমঝাঁড় ইউনিয়নের ২০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়।

এছাড়া বন্যার এই পানি এসে চাপ পড়ে গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর প্রধান সড়কের ওপর। বন্যায় প্লাবিত হয়ে আশেপাশের ৫টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ থাকে।

সালাইপুর গ্রামের মফিজল হক বলেন, তিনবছর আগে পানির চাপে সালাইপুর গ্রামের ঘাঘট নদীর প্রায় ৫০ ফুট বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে এই পথে চলাচলকারী প্রায় ৫ হাজার মানুষকে অসহনীয় কষ্ট পেতে হচ্ছে। বাঁধটি মেরামত না করায় আবারও বন্যার পানি ঢুকে কষ্ট পেতে হচ্ছে। অনেক বাড়ির আঙিনায় ও ঘরে এক হাঁটু করে পানি উঠেছে।

বড় গয়েশপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমান বলেন, সামান্য কিছু জায়গা মেরামত না করার ফলে আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিবছর নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় আমার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ফলে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফাহিম সরকার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। ফলে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেই প্লাবিত হয়ে পড়ে বনগ্রাম ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মাহবুবুর রহমান বলেন, যেটা ভাঙা আছে, সেটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। নতুন করে যাতে কোনো বাঁধ না ভাঙে সেটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি। পরে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

রওশন আলম পাপুল/এএম/আইআই

আরও পড়ুন