ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঘরে ঘরে পানি

জেলা প্রতিনিধি | গাইবান্ধা | প্রকাশিত: ০৩:৪০ এএম, ১৯ আগস্ট ২০১৭

অব্যাহতভাবে করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সেই সঙ্গে হুমকির মধ্যে রয়েছে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক।

ইতোমধ্যেই বাঁধ ভেঙে ও বন্যার পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১৩৫টিরও বেশি গ্রামের ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। সেই সঙ্গে ঘরে ঘরে পানি উঠেছে। সেই পানি কিছুতেই সরছে না।

এদিকে, বাঁধ ভেঙে ও শাখা নদী-নালা, খাল-বিলগুলো দিয়ে পানি প্রবেশ করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে অসংখ্য ফসলি জমি।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৬টায় করতোয়া নদীর পানি কাটাখালি পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি বেড়েছে ২১ সেন্টিমিটার।

Gaibandha-Photo

অব্যাহত নদী ভাঙনের ফলে ১০ বছর আগে গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের তরফমনু ও সাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল গ্রামে করতোয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

এরপর থেকে আর নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বাঁধ না থাকা ওই স্থানটি দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে গেবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার কামারপাড়া থেকে সাপমারা ইউনিয়নের কাটামোড় পর্যন্ত দুই কিলোমিটারেরও বেশি সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এই পানির উচ্চতা দুই ফুটেরও বেশি। ফলে এই সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ বিকল্প পথ দিয়ে চলাচল করছে।

অপরদিকে, বন্যার পানি প্রবেশ করে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পশ্চিম পাশের গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার কালিকাডোবা, কাইয়াগঞ্জ, চাষকপাড়া, ঝিলপাড়া, পুরাতন বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানি উঠেছে উপজেলা পরিষদ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ডাক বাংলো, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর, গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজ, কাইয়াগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, কামারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবিন্দগঞ্জ বি এম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার বাড়িগুলোতে। নষ্ট হয়ে গেছে অনেকগুলো কাঁচা-পাকা সড়ক।

Gaibandha-Photo

বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের বালুয়া নামক স্থানে বাঙালি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে চরপাড়া, চরবালুয়া, সিংজানি, পুনতাইড়, কানিপাড়া, খামারপাড়া ও ছয়ঘড়িয়াসহ আশেপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এই বাঁধ ভাঙায় আরও পানিবন্দি হয়ে পড়বে পাশের কোচাশহর ও শালমারা ইউনিয়নের অনেকগুলো গ্রাম।

স্থানীয় কলেজছাত্র সুবর্ণ গৌতম মহন্ত মিথুন বলেন, গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা এলাকার অনেক রাস্তা-ঘাট পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ড্রেনের নোংরা পানি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

পৌর এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম সরকার বলেন, ঘরে এক কোমরের বেশি পানি উঠেছে। খুব সমস্যায় পড়েছি। আশেপাশে সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে আজ আমাদের এই দুর্ভোগ।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শীলাব্রত কর্মকার জাগো নিউজকে বলেন, এবার বন্যায় উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৩৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ চার লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। টাকা দিয়ে শুকনা খাবার কেনা হয়েছে। সেসব বিতরণের কাজ চলছে। পানির প্রবল চাপের কারণে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়ক দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। ফলে ওই সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কে পানির প্রবল চাপের কারণে বস্তা ফেলেও কাজ হচ্ছে না।

রওশন আলম পাপুল/এএম/জেআইএম

আরও পড়ুন