ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শঙ্কা আর হতাশায় গরু খামারিরা

জেলা প্রতিনিধি | টাঙ্গাইল | প্রকাশিত: ০৬:০৭ এএম, ২৪ আগস্ট ২০১৭

আর মাত্র কয়েকদিন পরই ঈদুল আজহা। এ ঈদের বড় বৈশিষ্ট্য পশু কোরবানি। এ ঈদকে সামনে রেখে ও কোরবানির উদ্দেশে কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে পশু লালন পালন করে থাকেন। তবে অধিকাংশ মানুষই ক্রয়কৃত পশু কোরবানি দেন। তাই ঈদ আর কোরবানি ঘিরে জমে ওঠে পশু পালনের প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই টাঙ্গাইলের গরু খামারিরাও।

ঈদ ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। অস্বাভাবিক বন্যা, পশুর দাম কমে যাওয়া ও গো-খাবারের দাম বৃদ্ধিসহ ভারতীর গরু প্রবেশ নিয়ে চরম হতাশা আর লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলায় এ বছর ১২ হাজার ৩৭৫টি বাণিজ্যিক খামারসহ পারিবারিক পর্যায়ে লালন পালন হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার গরু। রয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার ছাগল ও ভেড়া।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী জেলায় গড়ে উঠেছে গরু মোটাতাজাকরণ খামার। অস্বাভাবিক বন্যা আর গো-খাবারের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও ভারত থেকে গরু না আসলে এসব খামারিরা লাভবান হবেন বলে আশা তাদের। ভারত থেকে দেশে যাতে গরু না প্রবেশ করে সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আশ্বাসও দিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় কর্তৃপক্ষ।

jagonews24

জানা যায়, এ বছর জেলায় গরু মোটাতাজাকরণ খামারের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৭৫টি। এর মধ্যে বাণিজ্যিক খামারসহ পারিবারিক পর্যায়ে রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার গরু আর প্রায় ৭৫ হাজার ছাগল ও ভেড়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবছরও টাঙ্গাইল সদর, ভূয়াপুর, কালিহাতি, সখিপুর উপজেলাসহ জেলার ১২টি উপজেলায় ১২ হাজার ৩শ ৭৫টি খামারে গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া লালন পালন করছেন খামারিরা।

খামারিদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোনো ওষুধ ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রদ্ধতির সবুজ ঘাস, খড়, ভুষি, ভাত, খৈল আর ভিটামিন খাইয়ে লালন পালন করা হচ্ছে এসব পশু। তবে চলতি বছরের অস্বাভাবিক বন্যার ফলে গো-খাবারের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিদের খরচ অন্যান্য বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

একদিকে গো-খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে গরুসহ এসব পশু লালন পালনের খরচ বেড়ে গেছে। অপরদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কমে গেছে গরুসহ এ সকল পশুর দাম। এছাড়াও রয়েছে ভারত থেকে গরু আসার শঙ্কা। এ নিয়ে চরম হতাশা আর লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা।

ঈদ উপলক্ষে ভারত থেকে যাতে গরু না আসতে পারে সে ব্যাপারে সরকারের কঠোর নজরদারি কামনা করছেন এ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। অন্যথায় খামারিরা লোকসানে পড়ে গরু লালন পালন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে বলেও জানান তারা।

এ নিয়ে গোবিন্দাসী গ্রামের গরু খামারি দুলাল চকদার জানান, পাঁচ বছর যাবৎ তিনি এ গরু খামার পরিচালনা করছেন। প্রতি বছর তিনি খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে ৩০/৪০টি গরু মোটাতাজা করেন। তার এই খামার পরিচালনায় রয়েছে ৪ জন কর্মচারি। এ ব্যবসার শুরু থেকেই তিনি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। এবছরও তিনি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ৪০টি গরু মোটাতাজা করেছেন।

প্রতিবছরই তিনি এভাবে লালন পালন করা গরু খামারসহ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন বলে জানান।

jagonews24

তিনি আরো জানান, এ বছরের অস্বাভাবিক বন্যা আর গো-খাবারের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি খামারেই বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যয়। এ বন্যার ফলে দেশজুড়ে কমে গেছে গরুর দাম। এ পরিস্থিতি সত্তেও যদি ভারত থেকে গরু প্রবেশ করে তাহলে এ ব্যবসায়ীরা চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ নিয়ে খামারিরা চরম হতাশা আর শঙ্কায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা নিতাই চন্দ্র দাস জানান, ঈদ উপলক্ষে যেসব খামারিরা গরু মোটাতাজা করছেন তাদের খামার নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ থেকে বিরত রাখতে চলছে কঠোর নজরদারি। খামারে কোনো গরু অসুস্থ হলে নেয়া হচ্ছে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এস এম আওয়াল হক জানান, অস্বাভাবিক বন্যা আর গো-খাবারের দাম এ বছর কিছুটা বেশি। এ সত্তেও ভারত থেকে গরু না আসলে এবছরও খামারিরা লাভবান হবে। দেশে গরুর উৎপাদন বৃদ্ধি, খামারিদের বাণিজ্যিক সুবিধা সৃষ্টি, নতুন নতুন খামার গড়ে ওঠার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। বাণিজ্যিক এ খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে ও ভারত থেকে দেশে যাতে গরু না আসতে পারে সে ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/আরআইপি

আরও পড়ুন