ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাবাকে ঈদের কাপড় কেনার কথা বলতে পারিনি

জেলা প্রতিনিধি | গাইবান্ধা | প্রকাশিত: ১০:৩৭ এএম, ৩১ আগস্ট ২০১৭

‘একদিকে বন্যায় ক্ষতি, অন্যদিকে নদী ভাঙনের ভয়। গুচ্ছগ্রামে এসে আশ্রয় নিয়েছি। বাবা কৃষিকাজ করেন। চারদিকে পানি থাকায় কাজে যেতে পারেন না। কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। তাই এবার বাবাকে ঈদের কাপড় কেনার কথা বলতে পারিনি।’

কথাগুলো বলছিল গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের মাইজবাড়ীর চর গ্রামের চিথুলিয়া দিগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রুজিনা আক্তার (৮)।

একদিন পরই ঈদ। কিন্তু ঈদের আনন্দ নেই গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শিশুদের মনে। দুই দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়ে নদী তীরবর্তী এসব এলাকার লক্ষাধিক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। ফলে অভিভাবকরা সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দিতে না পারায় নিরানন্দ ঈদ কাটবে এসব এলাকার শিশুদের।

father

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর দ্বিতীয় দফা বন্যায় গাইবান্ধার সাত উপজেলার ৬৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৬০৭টি গ্রামের ৫ লাখ ৭২ হাজার ৭৩১ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় এক লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৩টি পরিবার। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ১৫৭টি।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাঁড়, কামারজানি ও মোল্লারচর ইউনিয়ন, সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা, হলদিয়া ও জুমারবাড়ী ইউনিয়ন, ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া, এরেন্ডাবাড়ী, ফজলুপুর, ফুলছড়ি ও গজারিয়া ইউনিয়ন, পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়ন ও সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নদী সংলগ্ন ও বন্যার পানি ঘরে ওঠায় মানুষ ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যাচ্ছে। ঘরবাড়িতে বুক সমান পানি উঠেছে। ঘরের বেড়া ডুবে গিয়ে শুধু টিনের চালা দেখা গেছে অনেক এলাকায়। রান্নায় ব্যবহৃত জ্বালানিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানির স্রোতে ভেসে গেছে। বাঁশের খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। অনেকে ঘরে তালা দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। চারদিকে পানি ওঠায় শিশুরা খেলাধুলা করতে না পেরে সাংসারিক কাজে বাবা-মাকে সাহায্য করছে।

father

ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী হিমু আক্তার (৭) বলে, বাবাকে বলেছিলাম ঈদের পোশাক কিনে দিতে। কিন্তু বাবা বলেছে বন্যায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন নাকি হাতে টাকা নেই। তাই এবার ঈদে নতুন কাপড় কিনে দিতে পারবে না। তাই আমার মন খারাপ, এবার ঈদে আনন্দ হবে না।

একই উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য খাটিয়ামারি গ্রামের আব্দুল আজিজ (৩৫) বলেন, এবার দুই দফা বন্যায় আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চারদিকে পানি থাকায় কৃষি কাজ বন্ধ ছিল। জমানো যে টাকা ছিল তা শেষ করে ঋণ নিতে হয়েছে। এরপর আবার ঘরবাড়ি মেরামত করতে হবে। এ অবস্থায় ছেলে-মেয়েদের ঈদের কাপড় কিনে দিতে পারবো না। ঈদে সেমাই-চিনি কেনার টাকা কোথায় পাব ভেবে পাচ্ছি না।

father

সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের শামীম মিয়া (১০) বলে, ঈদ এলেই আমাদের মনে অনেক আনন্দ থাকে। আমরা নতুন কাপড় পরি। এ গ্রাম-ও গ্রাম বেড়াতে যাই। কিন্তু এবার বন্যায় আমাদের ক্ষতি হয়েছে বেশি। বাবা নতুন কাপড় কিনে দেয়নি। তাই এবার ঈদে কোনো আনন্দ করতে পারব না। নিরানন্দ ঈদ কাটবে।

এসব বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল জাগো নিউজকে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য ইতিমধ্যে ৫০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ১৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ঈদ উপলক্ষে সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সেমাই-চিনিসহ ঈদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠনসহ ব্যক্তি উদ্যোগে বন্যাকবলিত এলাকায় অনেকে ত্রাণ বিতরণ করছে।

রওশন আলম পাপুল/আরএআর/আইআই

আরও পড়ুন