ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কম দামে চামড়া কিনেও শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

জেলা প্রতিনিধি | চাঁদপুর | প্রকাশিত: ০৩:২৯ এএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

চাঁদপুরের চামড়া ব্যবসায়ীরা কোরবানির চামড়া নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দিন-রাত মিলে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলেও কাছাকাছি হয়েছে।

চাঁদপুরের পালবাজারের চামড়ার বড় আড়তদার আকবর গাজী, এমদাদ পাটওয়ারী জাগো নিউজকে জানান, এবার চাঁদপুরে কোরবানির চামড়া বিক্রি হয়েছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও অনেক কম মূল্যে। ছোট-বড় সকল গরুর চামড়া প্রায় একই দামে বিক্রি হয়েছে। দেড় লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫শ টাকায়। এ বছর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল একেবারেই কম। আগের বছর ঈদুল আজহার সময় দেখা যেত মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা সকাল থেকেই প্রতিটি বাসা বাড়িতে চামড়া ক্রয় করার জন্য অগ্রিম বলে যেত। এবার ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র, ঈদের দিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত অনেকেরই চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের জন্য। যারা এসেছেন তারা গড়ে প্রতিটি গরুর চামড়া ক্রয় করেছেন ৩শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। আর ছাগলের চামড়া অনেকে ক্রয় করতে আগ্রহ দেখাননি ।

শহরের স্থায়ী চামড়া ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, বাচ্চু হাজী ও জসিম গাজী জাগো নিউজকে বলেন, কিছু কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী এ বছর নিজেরাই চামড়া ক্রয় করে মজুদ করেছে। নিজেরাই চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে রাজধানীর ট্যানারিগুলোতে নিয়ে গেছে। তারাই ভালো লাভবান হবে। আমরা এবার এ ধরনের মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কারণে তেমন একটা চামড়া সংগ্রহ করতে পারিনি।

তারা আরও বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদে ট্যানারির মালিকরা জেলার স্থায়ী চামড়া ব্যবসায়ীদের চামড়া ক্রয়ের জন্য ২০/২৫ লাখ টাকা অগ্রিম দিত। কিন্তু এবারের ঈদে ২ লাখ টাকাও দিতে চায় না তারা। আমরা স্থায়ী ব্যবসায়ীরা এ বছর তেমন একটা চামড়া ক্রয় করতে পারি নাই। কেউ কেউ বলছেন যতটুকু চামড়া সংগ্রহ করেছি ব্যবসা হবে কম।

চামড়া ব্যবসায়ী মো. শাহাদাত হোসেন জাগো নিউজকে জানান, ১টি চামড়া সংরক্ষণ করতে কমপক্ষে ১০ কেজি লবণের প্রয়োজন। লোকাল লবণের ৫০ কেজি ওজনের ১ বস্তার দাম ১৪শ টাকা। চামড়া ক্রয় বিক্রয়সহ চামড়া সংরক্ষণে সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী না হলে আমাদের লোকসান ছাড়া আর কোনো গতি থাকবে না।

সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, এই ইউনিয়নে গত বছর সাত থেকে আটজন ব্যবসায়ী মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করেছে। গত বছর চামড়া কিনে তাদের লোকসান হয়েছে আর এ বছর দাম কম হওয়ায় অনেকেই এ ব্যবসায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। গত বছর যে চামড়া বিক্রি হয়েছে ১৩শ থেকে ১৫শ টাকা, সেই একেই সাইজের চামড়া এ বছর ৩শ থেকে ৫শ টাকায় কিনেছি। কাঁচা হিসেবে বিক্রি হবে সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি ফুট ২৫ টাকা।

ইকরাম চৌধুরী/আরএআর/জেআইএম