এতো নির্যাতন কখনো দেখেননি আবদুর রহমান
আবদুর রহমান। বয়স ১১০ বছর। এই বয়সে এসে সীমান্ত অতিক্রম করতে হবে তা কখনো ভাবেননি তিনি। কিন্ত মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে তাকে সেটাই করতে হয়েছে।
মঙ্গলবার পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের হোয়াইক্যং উলুবনিয়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছেন। তার দুই সন্তান তাকে চেয়ারে বসিয়ে কাঁধে করে এপারে নিয়ে এসেছেন। মিয়ানমারের আরকান রাজ্যের বুচিডং থানার খানসাম এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান।
তিনি বলেন, অনেকবার মিয়ানমার জান্তার নির্যাতন, নিপীড়ন ও হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু এবারের মতো এতো নির্যাতন কখনো দেখেননি। সেনাবাহিনী নারীদের নির্যাতন করছে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। পুরুষদের ধরে নিয়ে হত্যা করছে। তাই জীবন বাঁচাতে শেষ বয়সে নিজ জম্মভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
আবদুর রহমান আরও জানান, প্রায় আট দিন চেষ্টার পর এপারে চলে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এ সময় তিনি কখনো পাহাড়ে, কখনো ধানখেতে আবার কখনো রোহিঙ্গাদের ছেড়ে আসা খালি ঘরে রাত্রি যাপন করেছেন। নিজ চোখে অনেক মরদেহ পড়ে থাকতেও দেখেছেন বলে জানান তিনি।
অবশেষে প্রাণ রক্ষা করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে বাংলাদেশিদের জন্য দুই হাত তুলে দোয়া করেন ১১০ বছর বয়সী আবদুর রহমান।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে গত ১১ দিনে দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। এসব রোহিঙ্গা মোচনী, নয়াপাড়া ও লেদা, কুতুপালং ও বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে।
আরএআর/আইআই