দৌলতদিয়ায় যানজটে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ঈদের পর থেকে প্রতিদিনের দীর্ঘ যানজটের কারণে ভোগান্তি কমছে না যাত্রী ও যানবাহন চালকদের। যানজটের কারণে দৌলতদিয়া প্রান্তে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীবাহী পরিবহন ও ছোট গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এবং কোনো কোনো পণ্যবাহী ট্রাককে দিনের পর দিন নদী পারের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
এতে যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাকের চালকরা তাদের পণ্য নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। তাছাড়া যানজটের কারণে যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো সময় মতো তাদের যাত্রী পরিবহন করতে না পাড়ায় পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে ঈদের পর থেকেই দৌলতদিয়া দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিরতে শুরু করেছে কর্মমুখী মানুষ। কিন্তু প্রতিদিনই দৌলতদিয়ায় যানজটের কবলে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া রুটে নাব্য সঙ্কট ও দৌলতিদয়া-পাটুরিয়া রুটে নদীতে তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মূলত এ যানজট বলে দাবি দৌলতদিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষের।
এদিকে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া রুটে নাব্য সঙ্কটের কারণে গতকাল দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কে। তবে গতকাল রাত থেকে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলেও আজ শনিবার বিকেলে দৌলতিদয়া প্রান্তে চার কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৬ শতাধিক যানবাহন নদী পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে রয়েছে।
এদিকে যানজট নিরসন এবং সিরিয়াল ভেঙে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সে জন্য রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের নির্দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সড়কে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
ঢাকামুখী একাধিক যাত্রী জানান, ভোর থেকে তারা দৌলতদিয়া প্রান্তে এসে সড়কে নদী পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে রয়েছে। এখনো ফেরি ঘাট অনেক দূর, কখন ফেরি পাবেন তাও জানেন না। পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছেন সমস্যায়। তারপরও বাথ রুম ও খাবার সমস্যা রয়েছে। ঈদের আগে ভালো মতো আসলেও ঈদের পরে এমন ভোগান্তি মেনে নিতে পারছেন না তারা। পর্যাপ্ত ফেরি ও লোকবল দিয়ে এ সমস্যা সমাধান করার দাবি জানান যাত্রীরা।
পরিবহন চালকরা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে সময় মেনে যাত্রী নিয়ে তারা ঢাকায় যান এবং সেখান থেকে আবার যাত্রী নিয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু এবার ঈদের আগে যানজটের তেমন কোনো ঝামেলা না হলেও ঈদের পর থেকে দৌলতদিয়ায় প্রতিদিন তাদের যানজটে পড়তে হচ্ছে। এ কারণে গাড়িতে থাকা যাত্রীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি সময় মতো যাত্রী পরিবহন না করতে পেরে তারা পড়েছেন বিপাকে।
পণ্যবাহী ট্রাকের এক চালক জানান, ভোমরা থেকে চারশ বস্তা চাল লোড করে আজ চার দিন ধরে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে আছেন। যে চাল ঢাকা শহরে নিয়ে গেলে মানুষ খেয়ে বাঁচবে, সে চালকে বাজে মাল বলে তার ট্রাকটি আটকে রাখা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) রুহুল আমিন জানান, কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুটে নাব্য সঙ্কটের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দৌলতদিয়ায় যানবাহনের বাড়তি চাপ পড়েছিল। কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় আজ দৌলতদিয়ায় গতকালের চাইতে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কম। দৌলতদিয়ায় নদী পারের অপেক্ষায় যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক মিলে ছোট-বড় প্রায় ৫ শতাধিক যানবাহন সিরিয়ালে রয়েছে। যানজট নিরসনে এ রুটে ছোট-বড় ২১টি ফেরি চলাচল করছে এবং চারটি ফেরি ঘাটই সচল রয়েছে।
রুবেলুর রহমান/আরএআর/আরআইপি