ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মেয়েকে কাঁধে নিয়ে মন্দিরে মন্দিরে ঘুরছেন বাবা

জেলা প্রতিনিধি | খাগড়াছড়ি | প্রকাশিত: ০২:১৯ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাইড্রোসেফালাসে আক্রান্ত পার্বতী ত্রিপুরা নামের এক শিশুর সন্ধান মিলেছে পার্বত্য খাগড়াছড়ির দুর্গম এক পাহাড়ি জনপদে। এ রোগের পাশাপাশি জন্মের পর থেকে কথাও বলতে পারছে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া মেয়েটি। বর্তমানে বাবার কাঁধে ভর দিয়েই বেঁচে আছে আট বছর বয়সী পার্বতী ত্রিপুরা।

আট বছর আগে পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের গালামনি পাড়ার কৃষ্ণজ্যোতি ত্রিপুরা ও পারুল বালা ত্রিপুরার কোলজুড়ে জন্ম নেয় পার্বতী ত্রিপুরা। পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে পঞ্চম পার্বতী ত্রিপুরা।

জন্মের ছয় মাস যেতে না যেতেই তার শরীরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে মাথা বড় হতে থাকে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া পার্বতীর। পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে পঞ্চম পার্বতী ত্রিপুরা কি রোগে আক্রান্ত তা এখনও জানেন না তার দরিদ্র বাবা কৃষ্ণজ্যোতি ত্রিপুরা। তবে অর্থাভাবে আজ পর্যন্ত কোনো ডাক্তার দেখানো হয়নি পার্বতীকে, এমনটাই জানিয়েছেন কৃষ্ণজ্যোতি ত্রিপুরা।

jagonews24

তবে গত আট বছর ধরেই আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে মন্দির থেকে মন্দিরে ঘুরছেন খাগড়াছড়ির গোমতি ইউনিয়নের গালামনিপাড়া কালীমন্দিরের সেবক কৃষ্ণজ্যোতি ত্রিপুরা। বর্তমানে পার্বতী ত্রিপুরাকে কাঁধে নিয়ে হাট-বাজারেও ঘুরছেন সাহায্যের আশায়।

বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল, চট্টগ্রামের মেডিকেল অফিসার ডা. পরাগ দে বলেন, এটা এক ধরনের জন্মগত রোগ। জন্মের পর থেকে মাথার মধ্যে পানি জমে এ রোগ হয়। ‘হাইড্রোসেফালাস’ নামের এ রোগ যথাযথ চিকিৎসায় সেড়ে উঠতে পারে উল্লেখ করে ডা. পরাগ দে বলেন, তবে তার চিকিৎসায় অনেক দেরি হয়ে গেছে।

অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ'র আইএমও ডা. নুসরাত কামাল তার সুস্থ হয়ে ওঠা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষেই নিশ্চিত হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘হাইড্রোসেফালাস’ রোগ থেকে আরোগ্য লাভের সম্ভাবনাও কমে আসে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হরিধনমগপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল ত্রিপুরা বলেন, আক্রান্ত মেয়েটির বয়স যত বাড়ছে তার মাথাও ততো বড় হচ্ছে। এটা অনেকের কাছে ভীতিকরও বটে। তবে তার পরিবার চিকিৎসার চেয়ে তাকে দিয়ে অর্থ রোজগারের ব্যাপারে খুব বেশি অগ্রহী বলেও জানান তিনি।

jagonews24

মাটিরাঙ্গার গোমতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন লিটন বলেন, স্থানীয় একটি মন্দিরের সেবক কৃষ্ণজ্যোতি ত্রিপুরার পরিবারটি খুব অসহায়। অন্যের খাসজমির ওপর একটি কুঁড়েঘর ছাড়া কিছুই নেই। অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসা করার মতো অর্থের সংস্থান করা তাদের পক্ষে অসম্ভব।

পার্বতী ত্রিপুরার চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন জাগো নিউজের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান ভুইয়ার (মুঠোফোন : ০১৮৪৬ ৫৩৩ ৩৬৩) সঙ্গে।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এমএএস/আরআইপি