ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শিল্পীর হাতে সাজছে প্রতিমা

জেলা প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ | প্রকাশিত: ০২:৪৭ এএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জেও শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার আয়োজন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে এখন ব্যস্ততা বেড়েছে প্রতিমা শিল্পীদের। যতই দিন ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে প্রতিমা শিল্পীদের। শিল্পীর তুলির আঁচড়ে সাজছে এখন দুর্গা মা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের একটি গ্রাম বাজার ভদ্রঘাট পালপাড়া। এ গ্রামে প্রায় ৪০-৫০টি হিন্দু পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই প্রতিমা তৈরির কারিগর। নারী-পুরুষ সকলেই প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। প্রতিমা তৈরি করেই চলে এদের সংসার।

durga1

সারা বছর এদের কদর না থাকলেও পূজার আগে কদর বেড়ে যায়। পূজার দুই মাস আগ থেকে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ। এবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এখানে প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। সেই সঙ্গে থেমে নেই নারী শিল্পীরাও।

বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরি ও মাটি দিয়ে প্রলেপ দেয়ার কাজ চলছে। পুরুষ কারিগরের পাশাপাশি নারীরাও কাঁদামাটি দিয়ে পরম যত্নে দেবীর মুকুট, হাতের বাজু, গলার মালা, শাড়ির পাড়, প্রিন্ট ও ঠাকুরের চুল তৈরি করছেন। দিনরাত সমান তালে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের ভদ্রঘাট ইউনিয়নের পালপাড়া প্রতিমা কারিগররা। তবে প্রতিমা তৈরিতে যে পরিশ্রম আর খরচ হয় বিক্রির পর বেশি লাভ হয় না। এ জন্য সরকারের কাছে সহায়তার দাবি করেছেন প্রতিমা কারিগররা।

durga1

প্রতিমা তৈরির কারিগর গোপীনাথ পাল জানান, প্রতি বছর দুর্গাপূজায় এ গ্রামের তৈরি প্রতিমা সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের বগুড়া, নাটোর ও জামালপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হয়ে থাকে। তবে পরিবারের সকলেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরি করলেও বেশি খরচের কারণে মুনাফা অর্জন করতে পারছে না এসব কারিগররা। কঠোর পরিশ্রম করেও মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের। সরকার যদি স্বল্পসুদে বা আর্থিক সহায়তা করে এ শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখে তাহলে তাদের পরিবারে স্বচ্ছলতা আসবে।

পালপাড়া গ্রামের গৃহবধূ শ্যামলী ভৌমিক ও সানালী রানী ভৌমিক বলেন, পুরুষদের সহযোগিতা করতেই প্রতিমার কাজ করছি। তবে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে না। সরকার যদি সহায়তা করতো তাহলে সংসার স্বচ্ছলভাবে চলতো।

রং তুলি হাতে ষষ্টি পাল, গৌতম পাল বলেন, সুতা, বাঁশ-কাঠের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবারের সকলকে নিয়েই কাজ করি। এতে যে পরিশ্রম হয় সে পরিমাণ মূল্য আমরা পাই না।

durga1

তিনি আরও বলেন, ভদ্রঘাট অঞ্চলে প্রায় ২শ থেকে ২৫০টি প্রতিমা তৈরি হয়। এখানকার প্রতিমা সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। যা আয় হয় তা দিয়েই কোনোমতে চলে প্রতিমা কারিগরদের সংসার।

সিরাজগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু জানান, সিরাজগঞ্জ জেলায় এবার প্রায় পাঁচ শতাধিক পূজা মণ্ডপ হবে। প্রতিবছরই সিরাজগঞ্জে সার্বজনীনভাবে দূর্গোৎসব উদযাপন করা হয়। সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে এ উৎসব প্রাণের উৎসবে রূপ নেয়। এবছরও দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

তিনি আরও জানান, দুর্গা প্রতিমা যারা তৈরি করেন তাদের কারখানার অবস্থা করা জরুরি। এসব কারিগররা দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্বল্পসুদে ঋণ দেয়ার দাবি জানালেন সিরাজগঞ্জ জেলার পূজা উদযাপন কমিটির এই নেতা।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন