ফেনীতে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ৫ কোটি টাকার ফল
ফেনীর সহস্রাধিক ব্যবসায়ীর সংসার চলে মৌসুমী ফল বিক্রি করে। তাইতো শহরের প্রধান সড়কের ফুটপাতসহ অলিতে গলিতে আম, কাঁঠাল, লিচু ও আনারসহ নানা রকমের মৌসুমী ফলের পসরা সাজিয়ে বসেন তারা। আর প্রতিদিন গড়ে ৫ কোটি টাকার ফল বিক্রি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ফেনীর ট্রাংক রোড়, এসএসকে রোড়সহ শহরের বিভিন্ন ফুটপাত ও রাস্তার পাশে ভাসমান দোকানগুলোতেও বিক্রি হচ্ছে মৌসুমী ফল। সরবরাহও রয়েছে প্রচুর। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ভ্যান গাড়ি ভরে বিক্রি করা হয় আমসহ অন্যান্য ফল। এছাড়াও শহরের অভিজাত শপিং মার্কেটের সামনে ও সুপারশপিং মলেও বসানো হয়েছে মৌসুমী ফলের পসরা।
সরেজমিনে ফল বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা দরে। আর খুচরা বাজারে এর দাম ১০০-১২০ টাকা। লক্ষণভোগ জাতের আম পাইকারী বাজারে ২০-২২ টাকা। কিন্তু তা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা। এছাড়াও ল্যাংড়া আম পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি ৩০-৩২ এবং খুচরা বাজারে ১০০-১২০ টাকা। গুটি আম ১৭-১৮ টাকায় কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়। তবে ফেনীর খুচরা বাজারের কোথায়ও কোথায়ও প্রতি কেজিতে টাকা ও বড় আকারের ৩০০ টাকা, আনারস জোড়া ৩০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও এক শ’ লিচু ৩০০-৩৫০ টাকা, মাঝারি আকারের কাঁঠাল প্রতিটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফল ব্যবসায়ীরা জানায়, প্রতিদিন ফেনীতে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ ট্রাক আম, আট থেকে দশ ট্রাক লিচু এবং চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ ট্রাক কাঁঠাল আসে। বেশির ভাগ লিচু পাবনা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর থেকে আসছে। কাঁঠাল আসে রাঙামাটিসহ চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল থেকে। মেহেরপুর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও বাঘা থেকে আসছে আম। আর দেশের বাইরে থেকে আসে আপেল, মাল্টা, কমলা ও আঙ্গুর। এসব ফল হাত বদল হয়ে বিপণন হয় পার্শ্ববর্তী কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা, নোয়াখালীর আলেকজান্ডার, রায়পুর, লক্ষীপুর, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও পাবর্ত্যাঞ্চলে।
আড়ৎদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফেনীতে হাজী নজির আহাম্মদ ফল মার্কেট, কাদের চৌধুরী ফল মার্কেট, আজিজুর রহমান ফল মার্কেট, সৈয়দুর রহমান ফল মার্কেট ও আবদুল মালেক ফল মার্কেট নামে মোট ৫টি মার্কেটে ১১৩ জন ফল ব্যবসায়ী রয়েছেন। ব্যবসার সুবিধার্থে এখানে ব্যক্তি মালিকানায় বৃহদাকার ২টি কোল্ড স্টোরেজ গড়ে ওঠেছে। দাম ও কদর বুঝে ব্যবসায়ীরা বাজারে তোলেন কোল্ড স্টোরে রাখা এসব ফল। তবে কোন প্রকারের আম কোল্ড স্টোরে রাখার ব্যবস্থা নেই বলে জানান তারা।
এবার মৌসুমের শুরুতেই ফলের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করে প্রশাসন। এতে করে মৌসুমী এসব ফলে ক্ষতিকারক কিছু মেশানো হচ্ছে না বলে দাবী ব্যবসায়ীদের। তবে ক্রেতাদের সন্দেহ এখনো এড়াতে পারেনি তারা।
এ ব্যাপারে মহিপাল ফল আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, এ বছর কেউ যাতে বিষযুক্ত ফল ফেনীতে বাজারজাত করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি। এছাড়া বিএসটিআই, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন আমাদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে আসছে।
এসএস/এমএস
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ বাংলাদেশে আর কোনো মব সহ্য করবো না: ছাত্রদল সভাপতি
- ২ একটা বাহিনী এনআইডি কার্ড-বিকাশ নম্বর নিচ্ছে: তারেক রহমান
- ৩ ৬ জনকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম, জয়যুক্ত করে হিসাব বুঝে নেবেন
- ৪ জেলগেট থেকে ফের গ্রেফতার বরিশালের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম
- ৫ কুমিল্লায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা, সংঘর্ষ-গাড়ি ভাঙচুর