ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

খানা খন্দকে সেনবাগে সড়কের বেহাল অবস্থা

জেলা প্রতিনিধি | নোয়াখালী | প্রকাশিত: ০৮:২৪ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

খানা খন্দকের কারণে নোয়াখালীর সেনবাগের বেশির ভাগ সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের । দ্রুত সময়ে এ এলাকার সড়কগুলো সংস্কার করা না হলে আগামী নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মানুষ।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৯টি ও পার্শ্ববর্তী সোনাইমুড়ী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নসহ মোট ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী) আসনটি গঠিত। প্রায় ১৫৯ বর্গ কি. মি. আয়তনের সেনবাগ উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ৮৩ হাজার।

সেনবাগ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ৯৩৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাঁচা সড়ক আছে ৬৪৮ কিলোমিটার এবং ২৮৬ কিলোমিটার পাকা। এর মধ্য ১০০ কি.মি. সড়ক একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী। এর মধ্যে সেনবাগ রাস্তা মাথা থেকে সেনবাগ-কানকরিহাট সড়ক,চৌমুহনী-কাশীপুর-ছাতারপাইয়া সড়ক,এমপি সড়ক, কল্যাণদি-নবীপুর সড়কসহ অনেক সড়কের কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কাঁচা মাটির রাস্তাগুলো আরও বেহাল।

সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আবদুল মালেক জানান, গোটা সেনবাগের দুই একটি রাস্তা ছাড়া বাকী সবগুলোর করুণ অবস্থা। এসব সড়ক দিয়ে ছোট বড় যে কোনো যানবাহন চলাচল খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো মতে চলালেও প্রায়ই গর্তে পড়ে গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। দিন যা আয় করি তা আবার মেরামত করতে খরচ হয়ে যায়। এ অবস্থা মাসের পর মাস চলছে।

যাত্রীরা জানান, ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাচল করা যায় না। একবার চলাচল করার পর শরীরে ব্যাথার জন্য ওষুধ খেতে হয়।

সেনবাগ কলেজের সাবেক ভিপি দুলাল হোসেন জানান, ২০১৫ সালের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই চলতি মৌসুমে দেখা দিয়েছে টানা বর্ষণ। দীর্ঘস্থায়ী বর্ষণে একদিকে যেমন সড়কগুলো নস্ট হয়ে গেছে পাশাপাশি অত্র উপজেলার ছোট বড় মিলে প্রায় ৬২টি রয়েছে ইঠের ভাটা। এসব ইটভাটার ভারী যানবাহনের কারণেই অনেক রাস্তা মেরামত করার কিছুদিন পরই আবার নষ্ট হয়ে যায়।

Noakhali-Road

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী) আসনের সাবেক এমপি জামাল উদ্দিন আহম্মেদ এফসিএ জানান, বছরের পর বছর ধরে সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী নির্বাচনী এলাকার সড়কগুলোর এ বেহাল অবস্থায় জন্য জনপ্রতিনিধিরা দায়ী । বিশেষ করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের স্থাীয় কমিটির যারা সদস্য তারা নিজেদের এলাকার রাস্তাগুলোর দিকে সবার আগে গুরুত্ব দেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মোরশেদ আলম সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে জাগো নিউজকে জানান, বন্যা-অতিবৃষ্টি, ইটের ভাটা ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ সঠিক সময়ে না পাওয়ার কারণে সঠিক সময়ে রাস্তাগুলো মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তারপরেও গত দেড় বছরে অনেক রাস্তা পাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু সড়কের কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আছে। বাকীগুলো আগামী দেড় বছরের মধ্য পাকা করা হবে বলে ও তিনি জানান।

সেনবাগ উপজেলা প্রকৌশলী শাহাজাহান জানান, ৭৮টি সড়ক মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। সড়ক মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে আর কোনো সড়ক খারাপ থাকবে না।

মিজানুর রহমান/আরএআর/এমএস