ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সীমান্ত দিয়ে অবাধে ঢুকছে ভারতীয় গরুর মাংস

প্রকাশিত: ০৩:৫১ পিএম, ২২ জুন ২০১৫

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্ত দিয়ে কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অবাধে ঢুকছে ভারতীয় রুগ্ন ও আধমরা গরুর মাংস। উচনা, খাঙ্গইর, হাটখোলা, চেঁঁচড়া ও কড়িয়া সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন মণকে মণ গরুর মাংস ঢুকছে। রমজানে গরুর মাংসের চাহিদা বেশি হওয়ায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। দেশিয় মাংসের দাম চড়া হওয়ায় ভারতীয় মাংসের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশিরা। যেখানে বাংলাদেশি মাংস প্রতি কেজি ৩৪০-৩৫০ টাকা সেখানে ভারতীয় মাংস প্রতি কেজি ১৮০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উচনা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় সরাসরি ভারতের জামালপুর, তিওর ও লস্করপুর থেকে জবাই করা গরুর মাংস আসছে। চেঁচড়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার উপর দিয়ে ভারতের হিলি ও উজাল এলাকা থেকে মাংস আসছে। গরু পারাপার বন্ধ থাকায় জবাই করা ভারতীয় গরুর মাংস পলিথিনের প্যাকেটে করে সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকানো হচ্ছে।

এসব মাংস খাঙ্গইর হাটখোলা ও পাঁচবিবি বাজারে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি ফেরি করে গ্রামে গঞ্জেও বিক্রি করা হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা ক্ষেতলাল, কালাই, জয়পুরহাট সদরে বিক্রি করা হচ্ছে। ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও এসব ভারতীয় মাংস অর্ডার দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন নিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় পলিথিন ও বস্তায় থাকায় এসব মাংস দিয়ে দুর্গন্ধ বের হয়। এছাড়া এসব মাংসের গুণগতমানও নষ্ট হচ্ছে।

পাঁচবিবি কড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আবু জাফর রহমান বলেন, ভারতীয় মাংসের দাম কম হওয়ায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও নিজের প্রয়োজনে ভারতীয় মাংস কিনে থাকি।

পাঁচবিবি উচনা এলাকার গরুর মাংস ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, ভারতে গরু জবাই হওয়ার ২/৩ ঘন্টার মধ্যে আমরা বাংলাদেশে নিয়ে আসি। ভারতীয় মাংস ২২০ টাকা করে খাঙ্গইর বাজারে এবং আমার বাড়ি থেকে নিয়ে যায় ক্রেতারা।

পাঁচবিবির উচনা সীমান্ত এলাকার পল্লী চিকিৎসক ডা. আশরাফুল আলম বলেন, প্রত্যেকদিন হাজার হাজার মণ গরুর মাংস বাংলাদেশে ঢুকছে এবং এসব গরুর মাংস খেয়ে অনেকেই বিভিন্ন রকম পেটের অসুখে ভুগছে।

জয়পুরহাট-৩ বিজিবি হাটখোলা ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মোহাম্মদ আলী বলেন, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে করিডোর বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে গরু আসতে পারছেনা বিধায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ভারতে গরু জবাই করে মাংস বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। তবে এ ব্যাপারে আমাদের টহল জোরদার আছে এবং বাজারগুলোতে আমরা মনিটরিং করছি। ভারতীয় মাংস পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই আমরা জব্দকৃত কয়েক মণ মাংস মাটির নিচে পুঁতে ফেলেছি।

জয়পুরহাট ৩-বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুর রাজ্জাক তরফদার জানান, ভারতীয় মাংস আসার বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি ঘটনাটি সত্য হয় তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এআরএ/আরআই