ভাড়া করা পশু হাসপাতাল ভবনেরও ভাড়া বাকি!
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা পশু হাসপাতালের মূলভবন পুনঃনির্মাণের জন্য বরাদ্দ হওয়ার ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আজো নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। বর্তমানে একটি ভাড়া ভবনে অতি কষ্টে পশু চিকিৎসার কাজ চলছে। এক বছর ধরে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে বকেয়া পড়েছে ওই ভবনের ভাড়া। হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন গবাদি পশুর ওষুধেরও তীব্র সঙ্কট রয়েছে বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, উপজেলা পশু হাসপাতালের ভবনটি বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় ২০১২ সালে অফিস কক্ষের ভবনটি এবং ২০০৫ ও ২০০৬ সালে কোয়ার্টার ভবন ২টি পরত্যিক্ত ঘোষণা করা হয়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ভবন পুনঃনির্মাণের জন্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু বরাদ্দের কিছুদিন পরে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃৃদ্ধি ও হাসপাতাল চত্বরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাটি ভরাটের কাজে ঠিকাদার আরো বরাদ্দের আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। সেই থেকেই নির্মাণ কাজ থেমে যায়।
অপর দিকে ২০১২ সাল থেকে হাসপাতালের পাশের একটি ভবন মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়ায় পশু চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। ভাড়ার টাকা সরকারি বরাদ্দ থেকে পরিশোধ করা হয়। কিন্তু ২০১৪ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক বছর ভাড়া বকেয়া থাকায় ভবন মালিক বিভিন্ন সময় ভাড়ার টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছেন।
এদিকে এ উপজেলার লাখ লাখ হাঁস-মুরগি, পোলট্রি ফার্মসহ কবুতর, ছাগল ও হাজার হাজার গরুর চিকিৎসার জন্য বছরে যে পরমিাণ ওষুধ বরাদ্দ দেয়া হয় তা দিয়ে এসব প্রাণির চিকিৎসা এক মাসও চলে না। তাই পশু মালিকদের চাহিদামতো ওষুধ সরবরাহ করতে না পারায় বিভিন্ন সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিসহ খারাপ কথাও শুনতে হচ্ছে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাদের।
উপজলো ভেটেরিনারি কর্মকর্তা অলোকেশ কুমার সরকার জাগো নিউজকে জানান, দ্রুত ভবন নির্মাণ ও সমস্যাগুলোর কথা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানালেও কোনো ফল হয়নি।
এমজেড/পিআর