ছিনতাইকালে ৫ পুলিশকে গণধোলাই, ওসি বললেন ভুল ‘বোঝাবুঝি’
ফাইল ছবি
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের চাতুটিয়া গ্রামে এক গরু ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইকালে গণপিটুনির শিকার ৫ পুলিশ সদস্যের বিয়ষটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গোপালপুর থানার ওসি।
এলাকাবাসীর দাবি, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছিনতাইকালে গণপিটুনির শিকার হন সাদা পোশাকধারী ওই ৫ পুলিশ সদস্য। তবে এটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে বলে দাবি করেছেন গোপালপুর থানা পুলিশ।
ঘটনাস্থল চাতুটিয়া গ্রামের আফজাল, মজিবর ও সুভলা বেগমসহ অসংখ্য এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন উপজেলা পুলিশের কয়েকটি দল সিএনজি নিয়ে এলাকায় অভিযান চালানোর নামে যুবক ও তরুণদের আটক করে তল্লাশি চালায়।
তল্লাশিকালে বেশির ভাগ সময় ওই যুবকদের পকেটে ইয়াবা অথবা গাঁজা দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করেন পুলিশ সদস্যরা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গোপালপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ আলীর নেতৃত্বে ৫ পুলিশ সদস্য এক গরু ব্যবসায়ীকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা ছিনতাই করে।
ছিনতাই শেষে সিএনজি নিয়ে পালানোর সময় ডাক-চিৎকার করেন ওই গরু ব্যবসায়ী। এ সময় স্থানীয়রা সিএনজিটি আটক করে পুলিশের সাদা পোশাকধারী ওই ৫ সদস্যকে গণপিটুনি দেয় ও ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধার করে।
এদিকে, গণপিটুনি থেকে রক্ষা পেতে ওই ৫ পুলিশ দৌড়ে হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার জয়নালের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পুলিশকে গণধোলাইয়ের সংবাদ পেয়ে গোপালপুর থানা পুলিশ ওই ৫ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে থানা নিয়ে যায়।
পুলিশ সদস্যদের গণপিটুনি দেয়ার ক্ষোভে এ সময় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে গোপালপুর থানা পুলিশের ওসিসহ প্রায় ২০ পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসে ঘটনাটি মিথ্যা দাবি করে সাধারণ মানুষের বক্তব্য আদায়ের চেষ্টা করেন।
কিন্তু পুলিশের উপস্থিতির আগেই সাংবাদিকদের কাছে ছিনতাইকালে ওই ৫ পুলিশ সদস্যকে গণপিটুনি দেয়াসহ সত্য ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দেন স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এদিকে, গণপিটুনির শিকার ওই ৫ পুলিশ সদস্যকে গ্রামবাসীর হাত থেকে রক্ষা করা হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার জয়নাল ও তার ছোট ভাই নওজেস আলী বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সত্য। গণপিটুনির শিকার ৫ পুলিশ সদস্যকে আমরা উদ্ধার করি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিএনজিচালক জানান, গণপিটুনির শিকার এসআই আশরাফ এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য মাসিক চুক্তিতে একটি সিএনজি ভাড়া নিয়েছেন। ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রামের অনেক বৃদ্ধ ব্যক্তিকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
তবে ছিনতাইয়ের ঘটনা ও গণপিটুনির শিকার ওই ৫ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে থানা পুলিশ ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেয়ার পাঁয়তারা করছে অভিযোগ করে স্থানীয়রা বলেন, বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে থানার ওসি এলাকার লোকজনের ওপর চাপ দিচ্ছেন।
সেই সঙ্গে অপরাধে জড়িত এই পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানায় এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, ছিনতাইকালে কোনো পুলিশ সদস্য জনগণের হাতে আটক বা গণপিটুনির শিকার হয়নি। তবে গ্রামবাসীর সঙ্গে ওই পুলিশ সদস্যদের কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। থানা পুলিশ গিয়ে তাদের নিয়ে আসে।
আরিফ উর রহমান টগর/এএম/এমএস