কেওলার হাওরে কৃষকের মুখে হাসি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৯০০ হেক্টর ফসলি জমির কেওলার হাওরে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে। এক সময় কেওলার হাওরে আউশ, আমন আর বোরো ধান ফলানো হতো। কিন্তু পানি নিষ্কাশন আর যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় গত দশ বছর ধরে হাওরের অর্ধেক ফসলি জমি কৃষকরা পতিত ফেলে রাখেন। মূলত এ দুটি কারণেই কেওলার হাওরের জমিতে ধান চাষ করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন ওই এলাকার কৃষকরা।
কৃষকের সেই দুঃখ এখন আর নেই। কৃষকের মুখে এখন জয়ের হাসি। এতদিন শুকনো মৌসুমে এই হাওরে যে জমিগুলো আনাবাদি পড়ে থাকত চলতি বোরো মৌসুমে সেই অনাবাদি জমিতে এলাকার কৃষকরা ধানের আবাদ করেছেন। সেই ধান পাকার পর কেটে গোলায় তুলবেন, দূর হবে তাদের এতো দিনকার দুঃখ-কষ্ট। এমনই বুক ভরা স্বপ্ন দেখছেন হাওর পাড়ের মানুষেরা।
স্থানীয় এবং কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুম শুরুর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ কেওলার হাওর উন্নয়নে জন্য তার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় হাওরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া উপশি ও খাইজান খালটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩৫০০ ফুট ও প্রস্থে ১৫ ফুট পুনর্খনন করা হয়। আর কেওলার হাওরের রুপসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে পূর্ব দিকে লাঘাটা ছড়ার পাড় পর্যন্ত ২০০০ ফুট রাস্তা পুনরায় সংস্কার করা হয়। এতে হাওরে পতিত জমিগুলো চাষ উপোযোগী হয়ে ওঠে।

কেওলার হাওরে ঘুরে দেখা যায়, এক সময় ফেলে রাখা হাওরের পতিত জমি সবুজ ধান গাছে ভরে উঠছে। কৃষকরা জমিতে চাষ দিচ্ছেন। কেউ কেউ ব্যস্ত রয়েছেন বীজতলা থেকে চারা উত্তোলনের কাজে। কেউবা চাষকৃত জমিতে ধানের চারা রোপণ করছেন। বদলে গেছে কেওলার হাওরের চিত্র। বিস্তীর্ণ হাওরের মাঠ জুড়ে এখন শুধু সবুজ ধানের চারা।
স্থানীয় কৃষক গনি মিয়া, জিল্লুল মিয়া, আবুল বশর, জুবায়ের আলী ও সিপার মিয়া জানান, তারা আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। চলতি বোরো মৌসুমে তাদের সবাই হাওরে পতিত জমিতে ধান চাষ করেছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে হাওরে পানি নিষ্কাশন আর যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেয়ায়। এখন তারা অনায়াসেই ঠেলাগাড়িতে করে সার, বীজ নিয়ে হাওরের শেষ সীমানা পর্যন্ত যেতে পারবেন। এতো দিন তাদের জমি পতিত ফেলে রাখতেন। এখন লাঘাটা ছড়া এলাকার কৃষকদের দাবি স্লুইচ গেট নির্মাণের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামছুউদ্দিন আহম্মেদ জানান, এখন থেকে ওই জমিতে বছরে প্রায় দুই হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপন্ন হবে। পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় এই হাওরে আড়াইশ হেক্টর জমি আনাবাদি থেকে যেত।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, এলাকার এমপি মহোদয়ের প্রচেষ্টায় খালটি খনন করা হচ্ছে। কাজও প্রায় শেষ। খালটি খননের ফলে হাওরের প্রায় ২৮৬ হেক্টর জমি এখন চাষাবাদ করা যাবে। খালে পানি থাকায় এই হাওরে এখন তিনটি ফসলেরই আবাদ হবে। খালটি খননের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এলাকাবাসীর।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ বলেন, এই খালটি খনন করা এলাকার কৃষকদের প্রাণের দাবি ছিল। খালটি খননের ফলে এই হাওরে এখন মানুষ সারাবছরই তিনটি ফসল ফলাতে পারবে। কৃষকদের উন্নয়নে সর ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
আরএআর/জেআইএম