চকরিয়ায় নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিক্ষার্থী নিখোঁজ
কক্সবাজারের চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে পাঁচ স্কুলছাত্র নিখোঁজ রয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মহাসড়কের মাতামুহুরী ব্রিজ এলাকায় গোসল করতে নেমে এ ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) তাদের সন্ধান চলছিল।
নিখোঁজ স্কুলছাত্ররা হলো, চকরিয়া গ্রামার স্কুলের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলামের দশম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে সায়ীদ জাওয়াদ অরবি (১৫), স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য ও চকরিয়া আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সের মালিক আনোয়ার হোসেনের দশম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আমিনুল হোসাইন এমশান (১৫), অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে মেহরাব হোসেন (১৩), কানু ভট্টাচার্যের ছেলে দশম শ্রেণির তূর্য ভট্টাচার্য (১৫) ও একই শ্রেণির অপর ছাত্র মো. ফারহান (১৫)। তারা সবাই চকরিয়া গ্রামার স্কুলের শিক্ষার্থী।
চকরিয়া গ্রামার স্কুলের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, স্কুলের অর্ধবার্ষিকীর পরীক্ষা শেষ হয়েছে আজ (শনিবার)। পরীক্ষা শেষে স্কুলের সহপাঠিরা মিলে মাতামুহুরী নদীর চরে ফুটবল খেলতে যায় শিক্ষার্থীরা। ফুটবল খেলা শেষে তারা নদীতে গোসল করতে নামলে হঠাৎ ৫ জনই পানিতে তলিয়ে যায়।
ঘটনা জানাজানি হবার পর চকরিয়া দমকল বাহিনীর সদস্য, পুলিশ ও স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
চকরিয়া থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) ইয়াসির আরাফাত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুনেছি ৬ জন গোসল করতে নেমেছিল। এদিক সেদিক সাঁতার কাটতে গিয়ে ৫ জন নিখোঁজ হয়ে যায়। আরেকজনও প্রায় ডুবে যাওয়া থেকে বিপদাপন্ন অবস্থায় কোনো মতে তীরে ফিরে এসেছে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে দমকল বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুদ্দীন মো. শিবলী নোমান বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নিখোঁজ ছাত্রদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্তু কক্সবাজারে প্রশিক্ষিত কোনো ডুবুরি না থাকায় এখনও নিখোঁজ কোনো স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
সায়ীদ আলমগীর/আরএ/এমএএস/আরআইপি/জেআইএম