ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘ভোট ডাকাতি হলে কক্সবাজারে লাগাতার হরতাল’

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৭:০৪ পিএম, ২৪ জুলাই ২০১৮

আগামী ২৫ জুলাই কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচনে অনিয়ম হওয়ার আশঙ্কায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া বাকি তিন প্রার্থী। কিন্তু সে দাবি বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ নেই নির্বাচন কমিশনের। তাই নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম ও ভোট ডাকাতি হলে ভোটের পরের দিন থেকে কক্সবাজারে লাগাতার হরতালের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নাগরিক কমিটির ব্যানারে নির্বাচন করা (নারিকেল গাছ প্রতীক) মেয়রপ্রার্থী জামায়াত নেতা সরওয়ার কামাল।

মঙ্গলবার বিকেলে নিজ বাসায় সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি এই ঘোষণা দেন।

সরওয়ার কামাল বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমানকে বিজয়ী করতে বিভিন্ন এলাকার স্বশস্ত্র ক্যাডার ভাড়া করে আনা হয়েছে। তারা অবস্থান করছে শহরের আবাসিক হোটেল ও বাসা-বাড়িতে। ইতোমধ্যে তাদের নিয়ে মিছিল করেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। যা পৌরবাসী দেখেছে।

তিনি বলেন, বিশ্বস্থ সূত্রে জানতে পেরেছি, স্বশস্ত্র ক্যাডাররা কেন্দ্র দখলের পর ভোট ডাকাতি করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাবে। তারা যে কোনোভাবে সরকার দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করবে বলে আমাদের কাছে ম্যাসেজ আছে।

সরওয়ার কামাল আরও বলেন, বহিরাগত ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা না হলে নির্বাচন কোনোভাবেই সুষ্ঠু হবে না। একটি পৌরসভার জন্য পুরো সরকারের বদনাম হবে। যদি নীল নকশার নির্বাচন করা হয়, মিথ্যা মামলা, হুমকি-ধমকি ও গ্রেফতার অব্যাহত থাকে তাহলে নির্বাচনের পরের দিন থেকে জেলায় এক সপ্তাহের হরতাল ডাক দেয়া হবে। তবে সুষ্ঠু ভোটে যে বিজয়ী হবে তাকে আমরা স্বাগত জানাব।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আমরা নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বারবার অনুরোধ করে আসছিলাম। কিন্তু আমাদের কোনো আবেদন রক্ষা করা হয়নি। সরকারি দলের প্রার্থী বেপরোয়াভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্গন করছেন। ‘পৌরসভা নির্বাচন আচরণ বিধিমালা’ ৭ এর ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’, ‘ঘ’, ‘ঙ’, ১২ এর (১) ১৩ এর (ক), সুস্পষ্ট লঙ্গন করেছেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ৩৩টি বিধিমালার অধিকাংশ অগ্রাহ্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। অথচ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। উল্টো আমাদের প্রচার কাজে বাঁধা দেয়া হয়। হয়েছে হামলা-মামলা। নির্বাচনী এজেন্টদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। শুধু নির্বাচনী কর্মী নয়, নিরীহ লোকজনকে থানায় ধরে নিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত আমাদের প্রায় ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রশাসন ব্যবহার করে পুরো নির্বাচনী এলাকায় ‘ভূতের আতঙ্ক’ তৈরি করা হয়েছে।

নাগরিক কমিটির এই মেয়রপ্রার্থী বলেন, আমি ১৯৯৩ ও ২০০২ সালে পরপর দু’বার পৌর কাউন্সিলর নির্বাচিত হই। একবার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করি। ২০১১ সালে জনগণের ভোটে আমি পৌর মেয়র নির্বাচিত হই। দল মতের ঊর্ধে উঠে আমি কাজ করি বিধায় সর্বশ্রেণির মানুষের মাঝে আমার একটা সম্মানজনক অবস্থান রয়েছে। পৌরবাসী আমাকে খুবই ভালবাসে। এবারের নির্বাচনে সেই অবস্থান আরও সুসংহত হয়েছে। আমার প্রতীক নারিকেল গাছ মার্কার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে পৌরবাসী নিরব ব্যালট বিপ্লবের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু ভোটের ক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, সরকারি দলের প্রার্থী ততই দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ২৩ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার পথসভায় যাওয়ার পথে কালুরদোকান এলাকায় আমাকেসহ আমার নির্বাচনী কর্মীদের ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়। একেমন আচরণ? একেমন গণতন্ত্র? নির্লজ্জ ঘটনায় আমি নিন্দা জানাই।

তার অভিযোগ, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় পুলিশকে নগ্নভাবে ব্যবহার করছে। বাধ্য হয়ে পুলিশ নির্বাচনী কর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানী করছে।

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, বর্তমান পুলিশ বাহিনী ১৯৭৩ সালের ‘রক্ষীবাহিনীর’ স্থান দখল করেছে। তাদের ওপর মানুষের আস্থা নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সেনা মোতায়েনের বিকল্প নেই। সংবাদ সম্মেলনে মেয়রপ্রার্থী সরওয়ার কামালের নির্বাচন পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে ৫ মেয়র পদপ্রার্থীসহ মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৮৬ জন। ১২ টি ওয়ার্ডে ৪৪ হাজার ৩৭৩ জন পুরুষ ও ৩৯ হাজার ৩৫৫ জন নারীসহ মোট ভোটার সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭২৮ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৩৯ টি।

সায়ীদ আলমগীর/আরএ/এমএস

আরও পড়ুন