ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কুমিল্লা-১১

‘দিনরাত মাদক আর চিনি আসে বর্ডার দিয়ে, এসব বন্ধ হওয়া দরকার’

সালাহ উদ্দিন জসিম , জাহিদ পাটোয়ারী | কুমিল্লা থেকে | প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) শেষ বিকেল। সূর্য ততক্ষণে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়া বাজার কলেজ মাঠে মাত্র জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি সভা শেষ হলো। স্তিমিত হয়ে এসেছে মাইকের শব্দ। মানুষ চলে যাচ্ছে যে যার গন্তব্যে।

এমন সময় বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় বসে চা পান করতে করতে কথা হয় এই কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে। এখানকার সমস্যা, নিজেদের প্রত্যাশা ও ভোটের মাঠের চিত্র তুলে ধরেন তারা।

উজিরপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামের সামছু মিয়া (৮৫) বলেন, ‘মানুষ তো দেখি হগল (সব) দিকেই আছে। নির্বাচন আইলে নেতারা আইয়ে। ভোট লই যায়। ভোটের আগে এই দিবো, হেই দিবো, কিন্তু কিছুই তো পাই না। যারে মনে চায় দেয়, সবাইরে তো দেয় না।’

এলাকার সমস্যা নিয়ে এই বৃদ্ধ বলেন, ‘দিনরাত মাদক আর চিনি আসে বর্ডার দিয়ে। চিনি গরিব লোকরা সাইকেলে করে আনি বাজারে বিক্রি করে যায়। মাদক তো বড়দের ব্যবসা। রোড তো পাকা, এখন গাড়ি ঢুকে, গাড়িতে লই যায়। এগুলোর সঙ্গে সব নেতারা জড়িত। আমরা করিও না, বুঝিও না। তবে এসব বন্ধ হওয়া দরকার।’

নির্বাচনে কে জয়ী হতে পারেন- তা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমগো এখানে জামায়াত পাস কইরবো। সবাই জামায়াতরে ভোট দিবো। আমি চাই সবাইকে যেন তারা দেখে।’

তরুণ ভোটার আব্দুর রাজ্জাক হাসানের বাড়ি শ্রীপুর ইউনিয়নের নালঘরে। তার মতে, নেতাদের মধ্যে সমস্যা নেই, নেতারা এলাকার উন্নয়নে ঠিকই বরাদ্দ দেন। কিন্তু পাতি নেতারা খেয়ে ফেলেন। রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। কাজ করে ঠিকই, কিন্তু কিছুদিন পরই তা নষ্ট হয়ে যায়।

ভোট নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ থাকে, ভোট ঠিক হবে। তারা ঢিলা দিলে দখল হবে, মারামারি হবে। এখানে দুই প্রার্থীর অবস্থান ভালো। মিয়া বাজারে বিএনপির অবস্থান ভালো। জোয়ারের তালে আমারও বিএনপিকে ভালো লাগে। একবার (ভোট) দিয়ে দেখি কী করে। ভালো করলে আবার দিবো। না হয়, দিবো না।’ 

কৃষ্ণপুরের ব্যবসায়ী মোহন মিয়া (৬৫) জানান, তাদের গ্রামে দুই দলেরই অবস্থান আছে। যেহেতু বিএনপি প্রার্থীর এলাকা, তাই সমর্থন তার বেশি। তবে, এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের অবস্থান ভালো। সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তার অভিজ্ঞতা আছে। এছাড়া, তিনি জাতীয় নেতা। এবার মনে হয় তিনিই জিতবেন।

আরও পড়ুন
আওয়ামী লীগের দুর্গ গোপালগঞ্জ, ভোট নিয়ে কী ভাবছেন ভোটাররা?
সিলেট-৫: ‘জামায়াতের ঘাঁটি’তে চ্যালেঞ্জে বিএনপির শরিক জমিয়তের প্রার্থী
ঢাকা-২: যানজট-ভূমিখেকো-মাদকমুক্ত কেরানীগঞ্জ চান ভোটাররা

‘দিনরাত মাদক আর চিনি আসে বর্ডার দিয়ে, এসব বন্ধ হওয়া দরকার’

মোহন মিয়া বলেন, ‘তবে আমার ভোট কাকে দিবো এখনো সিদ্ধান্ত নিই নাই। গ্রামবাসী মিলে বসে সিদ্ধান্ত নিবো। সবাই মিলে একদিকে ভোট দিবো।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুমিল্লা-১১ আসনে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। এখান দিয়ে অবাধে পণ্য ও মাদক চোরাচালান হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-সংলগ্ন হওয়ায় রাজধানী থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত একটি বিশাল গোষ্ঠী এই অপরাধে জড়িত। আগে যারা জড়িত ছিলেন এখনো তারাই আছেন। কিন্তু বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় পরিবর্তন হয়েছে।

এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ১১০ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ৯৭৭ জন। পোস্টাল ভোটার ১২ হাজার ৫৪১ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১২৭টি। এর মধ্যে সবগুলোই পুলিশের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ।

আসনটিতে মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন। তারা হলেন- বিএনপির কামরুল হুদা, জামায়াতের সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আ হ ম আবদুর রহীম, মুক্তিজোটের মোহাম্মদ ইউসুফ, গণফ্রন্টের মো. আলমগীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহিউদ্দিন শহিদ ও জাতীয় পার্টির মো. মাইনুদ্দিন। 

এবার এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি-জামায়াতের। যদিও আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আবদুল্লাহ তাহের ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মুজিবুল হক পান ৫৪ হাজার ১৭২ ভোট। ২০০৯ সালের নির্বাচনে উল্টে যায় চিত্র। মুজিবুল পান ১ লাখ ১২ হাজার ১ ভোট। আবদুল্লাহ তাহের জোটের প্রার্থী হিসেবে পান ৭৭ হাজার ৯২৪ ভোট।

এসইউজে/একিউএফ