ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নানান ঘটনায় কক্সবাজার পৌর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৬:৩৭ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৮

কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও বিএনপি-নাগরিক কমিটির ব্যানারে জামায়াত প্রার্থীদের ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে কক্সবাজার পৌরসভার কাঙ্খিত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এখন চলছে গণনার কাজ।

তবে বুধবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ ভাসিয়ে নিয়েছে ভোটের আমেজ। এরপরও প্রায় সব কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি উল্লেখ করা মতো ছিল।

কিন্তু বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়া এবং ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারার অভিযোগে কয়েকজন মেয়র প্রার্থী ভোট বর্জন ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সুষ্ঠ ভোটগ্রহণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন নৌকার প্রার্থী মুজিবুর রহমান।

তফসিল অনুসারে ২৫ জুলাই সকাল ৮টা থেকে বহুল আলোচিত কক্সবাজার পৌরসভার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোররাত থেকে টানা বৃষ্টির মাঝেও ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্ষণ বাড়ায় দুপুরের দিকে ধীরে ধীরে ভোটার উপস্থিতি কমতে থাকে।

Cox-

কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সবখানেই শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চললেও বেলা ১১টার দিকে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নৌকায় সিল মারার অভিযোগ তুলেন নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী জামায়াত নেতা সরওয়ার কামাল।

তিনি অভিযোগ করেন, সকাল থেকে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে সরকার দলীয় প্রভাবশালীরা ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় সিল মারে। অনেক ভোটারকে মেয়রের ব্যালট বাদে দুইটি ব্যালট পেপার দেয়া হয়। ১নং, ২নং ওয়ার্ডের সব কেন্দ্র, ৭নং ওয়ার্ডের এবিসি ঘোনা কেন্দ্র, ৫নং ওয়ার্ডের হাশেমিয়া মাদরাসা কেন্দ্র, ৮নং ওয়ার্ডের বল্যাপাড়া কেন্দ্র, ১২নং ওয়ার্ডের কলাতলী কেন্দ্র, ৬নং ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালট ছিনতাই করে নৌকা মার্কায় সিল দেয়া হয়েছে। সব কেন্দ্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-ছাত্র লীগ নেতারা এসব করছে। কেন্দ্রগুলোর আশপাশে প্রচুর পরিমাণ বহিরাগত সশস্ত্র লোকজন অবস্থান করে। তাই তিনি দুপুরের পরই ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

অপরদিকে, ৩নং ওয়ার্ডের নুরপাড়া কেন্দ্রে এক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ, ভোটারদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি ও জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ করেন কাউন্সিলরপ্রার্থী আমিনুল ইসলাম মুকুল।

Cox-

তিনি বলেন, জীবনে অনেক নির্বাচন দেখেছি, কিন্তু এভাবে কেন্দ্র দখলের মহোৎসব আর দেখিনি। নির্বাচনে নিয়োজিত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমি এর প্রতিকার চাই।

অপরদিকে, নির্বাচনে বিভিন্ন ভোটকন্দ্রে থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী।

তিনি জানান, কক্সবাজার কেজি অ্যান্ড মডেল হাই স্কুল কেন্দ্র থেকে মো. ফয়েজ উদ্দিন, আনছার হোসেন, ভোকেশনাল স্কুল কেন্দ্র থেকে নাসির উদ্দিন, তসলিমা বেগম, খোরশিদা বেগমকে বের করে দিয়েছে সরকার দলীয় প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন একেবারেই নির্বিকার ছিল বলে অভিযোগ করেন ইউসুফ বদরী। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলামও ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা সব কেন্দ্রেই সুষ্ঠভাবে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানান।

কিন্তু ভোট ডাকাতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেছেন, ভোটগ্রহণে আওয়ামী লীগ কোনো অনিয়ম করেনি। প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতর থেকে সুষ্ঠুভাবে ভোট নেয়া হয়েছে। এতে নৌকা প্রতীকের লোকজন কোনো প্রভাব বিস্তার করে ব্যঘাত ঘটায়নি।

Cox-

এদিকে, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে কারচুপির অভিযোগ করায় ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও প্রার্থী মিজানুর রহমানকে বেদম প্রহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তার বোন রুজিনা ও ভাতিজা নুরুচ্ছফা দাবি করেন, বেলা আড়াইটার দিকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে যান মিজানুর রহমান। দ্বিতীয় তলায় উঠে দেখতে পান কাউন্সিলর প্রার্থী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মনিরের পক্ষে ভোট কারচুপি করা হচ্ছে। এনিয়ে তিনি প্রতিবাদ করে নিচে নেমে এলেই তাকে মনিরের কর্মী-সমর্থকরা হামলা করে। তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলে মাথায় পানি দিয়ে হুশ ফেরানো হয়। এরপর আবার প্রহার করা শুরু হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বিকেল ৪টার দিকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, পৌরসভার ১২ ওয়ার্ডের ৩৯টি ভোট কেন্দ্রে ৩৯ জন প্রিসাইডিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে ২২৪ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৪৪৮ জন পোলিং এজেন্ট অফিসার দায়িত্বপালন করেছেন। ৩৯ কেন্দ্রে ভোট কক্ষ ছিল ২২৪টি। এরমধ্যে অস্থায়ী কক্ষ ১১টি। মঙ্গলবার রাতেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে যায় নির্বাচনী সরঞ্জাম ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/জেআইএম

আরও পড়ুন