সাতক্ষীরায় যুবকের ডাবল যাবজ্জীবন
ছবি-প্রতীকী
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে পৃথক দুটি ধারায় এক যুবকের পৃথক পৃথক যাবজ্জীবন ও সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে পৃথক পৃথক ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাহিদুল ইসলাম শুভ (৩৫) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কাপড়পোড়া গ্রামের আওরঙ্গজেবের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার গোছমারা গ্রামের প্রবাসী শহীদুল ইসলামের মেয়ে খোদেজা ইসলাম শিল্পী (২৮) একই উপজেলার তুলসীডাঙা গ্রামে তার মামার বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতো। শিল্পী ঢাকা ইডেন কলেজে ইতিহাসে সম্মান ডিগ্রি প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করাকালীন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় জাহিদুল ইসলাম শুভর সঙ্গে।
পরবর্তীতে জাহিদুল শিল্পীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বাবা বিদেশে থাকার কারণে মা ও মামার বাড়ির লোকজন রাজি হয়নি। একপর্যায়ে মামার বাড়িতে অবস্থানকালে ২০১০ সালের ১৮ জানুয়ারি জাহিদুলসহ তার কয়েকজন বন্ধু বেড়াতে আসে। এরপর বেড়ানোর নাম করে শিল্পীকে কুষ্টিয়ায় নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় জাহিদ। সেখানে জাহিদের স্ত্রী ও দুই সস্তান দেখতে পেয়ে চাপ সৃষ্টি করলেও বিয়েতে রাজি হয়নি শিল্পী। ফলে শিল্পীকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে গিয়ে নগ্ন ছবি তুলে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে ওই বছরের ২১ জানুয়ারি বিয়ে করতে বাধ্য করে জাহিদুল।
৩১ জানুয়ারি শিল্পীর মা আনোয়ারা খাতুন ভাই রবিউল ইসলামসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে শিল্পীকে বাড়িতে নিয়ে আসে। এর কয়েকদিন পর শিল্পী ঢাকার ইডেন কলেজে পড়তে চলে যায়। ওই বছরের ২৫ মার্চ ইডেন কলেজের সামনে থেকে শিল্পীকে অপহরণ করে কুষ্টিয়ার বাড়িতে নিয়ে আটক রাখে জাহিদুলসহ কয়েকজন। ২২ এপ্রিল শিল্পী পালিয়ে মামার বাড়িতে চলে আসে। ২৪ এপ্রিল অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণের নগ্ন চিত্র ধারণের অপমান সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করার পথ বেছে নিয়েছে মর্মে একটি চিরকুটে লিখে রাতে সে মামার বাড়িতে সঙ্গে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় মৃতের মামা রবিউল ইসলাম শিল্পীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করতে বাধ্য করানোর কথা উল্লেখ করে ২৫ এপ্রিল কলারোয়া খানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলারোয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শেখ মেজবাহউদ্দিন ২০১০ সালের ২৯ আগষ্ট জাহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাড. জহুরুল হায়দার বাবু ও সহকারী পিপি অ্যাডভোকেট নাদিরা পারভিন।
আকরামুল ইসলাম/এমএএস/আরআইপি