ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের কারাম উৎসব

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ০৬:২০ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কারাম পূজা। বংশ পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে প্রতি বছর উত্তরের সমতল ভূমির নওগাঁর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা এই কারাম উৎসব পালন করে আসছে। জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল মাঠে সোমবার রাতে এ উৎসব পালিত হয়। এ উপলক্ষে কয়েকটি জেলা থেকে আগত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন উৎসবে যোগ দিয়ে তাদের নিজেদের ভাষা সাংস্কৃতি আর ঐতিহ্য তুলে ধরেন।

জানা যায়, ১৯৯৬ সাল থেকে নাটশাল মাঠে নিয়মিত পালন করা হয় কারাম উৎসব। কারাম একটি গাছের নাম। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মানুষের কাছে এটি একটি পবিত্র গাছ। মঙ্গলেরও প্রতীক। প্রতি বছর বংশপরম্পরায় ভাদ্র মাসের পূর্ণিমায় পালন করা হয় এই পূজা। এই উৎসবকে ঘিরে নওগাঁর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাসরত এলাকাগুলো মুখরিত হয়ে উঠে।

পূজার সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সহদ্বয় দুই ভাই ধর্মা ও কর্মার জীবনী তুলে ধরা হয়। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা বিশ্বাস করে ধর্ম পালন করায় ধর্মা রক্ষা পায় সকল বিপদের হাত থেকে। আর কর্মা ধর্ম পালন করায় তার ক্ষতি হয়। ভাদ্র মাসের প্রথম পূর্ণিমায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লোকজন উপবাস করে কারাম গাছের ডাল কেটে আনেন। এরপর সন্ধ্যায় পুঞ্জিকা মতে পূর্ণিমা শুরু হলে কারামডাল কেটে অস্থায়ী মন্ডবে পুঁতে রেখে পূজা-অর্চনা আর নাচ-গান ও কিচ্ছা বলার মধ্য দিয়ে প্রতি বছর কারাম উৎসব পালন করে।

Naogaon-Adibasi-Karam-1

এ সময় পুরো এলাকা আদিবাসীসহ সকল সম্প্রদায় হয়ে উঠে মিলন মেলা। পূজা শেষে পরদিন কারাম ডাল উঠিয়ে গ্রামের তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের নারী-পুরুষ নেচে গেয়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুকুরে জল বিসর্জন দেয়। আদিবাসিরা এ কারাম উৎসবের জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন। এ উৎসবে বিভিন্ন জেলার সাংস্কৃতিক দল তাদের নাচ-গান পরিবেশন করেন।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ধর্মীয়গুরু বদ্দি ওরাই বলেন, প্রতি বছরই কারাম উৎসব করা হয়ে থাকে। এ উৎসবে সহদ্বর দুই ভাই ধর্মা ও কর্মার জীবনী তুলে ধরা হয়। এতে করে আমাদের সংসারে অভাব-অনটন দূর হয়ে যায়। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে রক্ষা হয়। এই বিশ্বাস থেকে বংশপরম্পরায় এই কারাম ডাল পূজা করে আসা হচ্ছে।

জাতীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ভাষা ও সংষ্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা রক্ষার্থে সরকারিভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

আব্বাস আলী/আরএ/পিআর

আরও পড়ুন