ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কক্সবাজারে ‘বন্দি’ সময় পার করছেন পর্যটকরা

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৮:৫২ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে কক্সবাজার উপকূলে ৪ নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত চলমান থাকলেও মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৯ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে ৭-৮ ফুট। এতে কক্সবাজারের উপকূলের নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ফলে হোটেল-মোটেল ও ঘরে ‘বন্দি’ সময় পার করছেন টানা তিনদিনের পরিকল্পনায় বেড়াতে আসা পর্যটক এবং স্থানীয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

কুতুবদিয়া, মহেশখালীর ঘলঘাটা, মাতারবাড়ি এলাকায় জোয়ারের পানি লোকালয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

শনিবার বিকেল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত কক্সবাজার বিমানবন্দরে সবধরনের বিমান ওঠা-নামা স্থগিত করেছে সিভিল অ্যাভিয়েশন বিভাগ।

এদিকে দুর্যোগ থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং উত্তাল সাগরে গোসলে না নামতে মাইকিং করা হচ্ছে। সেন্টমার্টিনে আটকাপড়া পর্যটকদের স্বল্পমূল্যে সেবা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মাইকিং করেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ।

তবে সেন্টমার্টিনে আটকাপড়া পর্যটকরা নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ। ঘূর্ণিঝড়ের যেকোনো দুর্যোগকালীন মুহূর্তে স্থানীয়দের পাশাপাশি আটকাপড়া পর্যটকদেরও নিরাপদ রাখতে সাইক্লোন শেল্টার এবং বহুতল ভবনগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পর্যটকদের আহার ও আবাসন নির্বিঘ্ন করা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া না কাটা পর্যন্ত তাদের দেখভাল করা হবে বলে উল্লেখ করেন ইউপি চেয়ারম্যান। দ্বীপেও বৃষ্টির পাশাপাশি হালকা বাতাস রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়ছে।

আবহাওয়া অধিদফতর কক্সবাজার অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান জানান, সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড় বুলবুল কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘণিভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ রয়েছে ১৩০ কিলোমিটার।

বুলবুলের তীব্রতায় উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ভূমিধস ও ঝুঁপড়ি ঘরগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং পাহাড় ধসের শঙ্কা রয়েছে জেলা শহরসহ পাহাড়ি অন্যান্য এলাকাগুলোতে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, জেলার ৮ উপজেলায় ৫৩৮টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বহুতল ভবনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও। উপকূল হিসেবে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সদরের পোকখালী, চৌফলদন্ডি, খরুশকুল, টেকনাফের সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে জেলার উপকূল এবং আশপাশ এলাকার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সহযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নেয়া রয়েছে। ০১৭১৫-৫৬০৬৮৮ নম্বর সচল রেখে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রোম চালু করা হয়েছে। দুর্যোগ সংক্রান্ত সকল তথ্য এখানে সরবরাহ ও পাওয়া যাবে।

ঢাকা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনদিনের জন্য বেড়াতে আসা সাজ্জাদুল হক বলেন, বেড়াতে এসে এখন হোটেল রুমে বন্দি হয়ে আছি। কক্সবাজারে প্রভাব কম হলেও বৈরী আবহাওয়া এবং বৃষ্টির কারণে পরিবারের নারী ও শিশু-কিশোররা বের হতে ভয় পাচ্ছে। তাই কোথাও ঘোরা হচ্ছে না।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইন বলেন, দুর্যোগের সময় যাতে আইনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি না ঘটে সেদিকে বিশেষ নজর রেখে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দৃষ্টি রাখা হচ্ছে পর্যটন এলাকাতেও।

সায়ীদ আলমগীর/এমবিআর/পিআর