ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা থাকলেও সামাজিক দূরত্ব মানতে নারাজ মানুষ

জেলা প্রতিনিধি | বরগুনা | প্রকাশিত: ০১:৫৮ পিএম, ২০ মে ২০২০

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে রাখতে বরগুনায় দ্বিগুণ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করার পরও স্বাস্থ্যবিধি মানাছেন না আশ্রয় নেয়া মানুষ। এছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার দেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের। তবে প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সরেজমিনে বরগুনার পশ্চিম গোলবুনিয়া শিশু-কিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দুই শতাধিক আশ্রয়প্রার্থী এই আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত জায়গা থাকার পরও তারা এক জায়গায় জড়ো হয়ে থাকছেন। কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না তারা।

একই চিত্র দেখা গেছে সদর উপজেলার ছোনবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পোটকাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও।

পশ্চিম গোলবুনিয়া শিশুকিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত স্থানীয় অধিবাসী আলেয়া বেগম বলেন, আমাদের এই আশ্রয়কেন্দ্রে খাওয়ার জন্য গতকাল রাতে গুড়, চিড়া, পানি ও বিস্কুট দেয়া হয়েছে। এছাড়া আর কোনো খাবার দেয়া হয়নি। এখানে বৃদ্ধ ও শিশুরা রয়েছে। তাদের খাবারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এই কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া সবাইকে মাস্ক এবং সাবান দেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে ব্যাগ থেকে মাস্ক বের করে মুখে দিয়ে তিনি বলেন, মাস্ক পরতে মনে চায় না।

একই কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া আব্দুল লতিফ বলেন, আমাদের এখানে খাবার নেই। শিশুরা না খেয়ে আছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার সরবরাহের অনুরোধ জানান তিনি।

মোসা. লিমা আক্তার বলেন, সবাইতো রোজা থাকতে পারে না। তাছাড়া বাড়ি থেকে যে খাবার রান্না করে নিয়ে আসব সে সুযোগও নেই। পানিতে বাড়িঘর সব তলিয়ে গেছে।

dietence

গোলবুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রের সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তাছাড়া আমরাও বারবার তাদেরকে দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করতে বলেছি। কিন্তু আশ্রয়প্রার্থীরা কিছুতেই আমাদের কথা শুনছেন না।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জাফর হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপের আগেও নানা প্রচেষ্টার পরও সাধারণ মানুষ সামাজিক দূরত্ব মানেনি। তারা তাদের ইচ্ছেমতো চলাফেরা করেছে। তাই এই দুর্যোগকালীন সময়ে তাদের স্বাস্থ্যবিধি কতটা মানানো যাবে বা তারা কতটা মানবেন সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, জেলার ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আমরা ইতোমধ্যেই আশ্রয়প্রার্থীদের মাস্ক এবং হ্যান্ডস্যানিটাইজারসহ সাবান দিয়েছি। তাদের সামাজিক দ্রুত নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য আমরা বরগুনায় দ্বিগুণ সাইক্লোন শেল্টার নির্ধারণ করেছি।

খাদ্য সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, বরগুনার প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে রোজাদার, যারা রোজা রাখেননি এবং শিশুদের জন্য খিচুড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। একযোগে জেলার এক ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে এসব খিচুড়ি বিতরণ করা হবে। তাই আশ্রয়প্রার্থীদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানান তিনি।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এফএ/জেআইএম