কালামের প্রত্যাশা একটি ঘর
কালাম হোসেনের কোমরের নিচ থেকে অবশ হওয়ায় দুই পা থেকেও নেই। যখন থেকে বুঝতে শিখেছেন তখন থেকে হামাগুড়ি দিয়ে পথ চলছেন। আর এভাবে চলতে গিয়ে হাঁটুর চামড়াগুলো উঠে যেত। পরে ঘা হয়ে যন্ত্রণা হত।
কালাম হোসেন (৩৪) নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আমাইড় ইউনিয়নের চকভবানি পূর্বপাড়া গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় কালাম হোসেন। জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী।
কালাম হোসেনের বয়স যখন ১০ বছর তখনই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন মা। স্কুলে যেতে না পারায় পড়াশোনাও শেখা হয়নি। কেবল নিজের নামটা লিখতে পারেন। দুই ভাই বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। মা মারা যাওয়ার পর বাবাও দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন।

ছোট থেকেই কালাম হোসেন হাঁস-মুরগি পালন এবং মাছ ধরার জাল তৈরি করে আয় করা শুরু করেন। এভাবেই চলতে থাকে তিনিসহ তার মানসিক প্রতিবন্ধী ছোট ভাইয়ের জীবন।
কয়েক বছর আগে স্থানীয় এক ব্যক্তির জমিতে বেড়ার ঘর তুলে বেকারির দোকান দেন। যেখানে প্রায় এক হাজার টাকার মতো মালামাল রয়েছে। আর ওই দোকান ঘরেই দুই ভাই বসবাস করেন। যা লাভ হয় তা দিয়ে তাদের দিন চলে। দূরে যাতায়াতের জন্য ভাঙাচোরা ভ্যানের তিন চাকার একটি বাহন আছে তার।
অসহায় কালাম হোসেন বলেন, আমার এই ছোট্ট দোকানে মালামাল খুবই কম। অনেক ক্রেতা এসে জিনিস না পেয়ে ফিরে যায়। টাকার অভাবে মালামাল কিনতে পারছি না। প্রতিবন্ধী একটা কার্ড আছে। গত কয়েক মাস থেকে ভাতাও পাচ্ছি না। টাকা পেলে একটু মালামাল কিনতে পারতাম। তিনি বলেন, জমির মালিক কয়েকবার জায়গা ছেড়ে দেয়ার জন্য হুমকি দিয়েছেন। জায়গাটি ছেড়ে দিলে কোথাও মাথা গোঁজার জায়গা পাব না। পাশের গ্রামে সিধাতলে গুচ্ছগ্রাম হচ্ছে। সেখানে একটি ঘর বরাদ্দ নেয়ার জন্য চেষ্টা করছি। ঘর পেলে দোকান দেব, পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন করব। কিন্তু শুনছি আমাকে ঘর বরাদ্দ দেয়া হবে না।

স্থানীয় আবু হাসান ও রেজাউল ইসলাম বলেন, কালাম হোসেন ঠিকমতো চলতে পারে না। জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। মানুষের জায়গায় ঘর তুলে দোকান করেছে। কয়েকবার জায়গাটা তাকে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারতো কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। অনেক প্রতিবন্ধী আছে যারা ভিক্ষা করে। কিন্তু সে ভিক্ষা না করে জীবন চালাতে ছোট্ট একটা বেকারির দোকান দিয়েছে। সমাজে অনেক বিত্তবান আছেন তারা চাইলেই একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে তার দোকানটি বড় পরিসরে সাজিয়ে দিতে পারবেন।
স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড সদস্য জহুরুল ইসলাম বাবু বলেন, কালাম হোসেন নিতান্ত অসহায় যুবক। ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে কোনো রকমে দুই ভাইয়ের জীবন চলে। এছাড়া সে সরকার থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পায়। তবে পাশের গ্রামে যে গুচ্ছগ্রাম (আবাসন) করা হচ্ছে সেখানে ঘর বরাদ্দের বিষয়টি ইউএনও এবং ইউপি চেয়ারম্যান দেখবেন। আমার সেখানে কিছু করার নেই।
আব্বাস আলী/এফএ/পিআর