ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নতুন চরে স্বপ্ন বুনেছেন ছয় যুবক

জেলা প্রতিনিধি | কুড়িগ্রাম | প্রকাশিত: ০৫:৪২ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০২০

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চরের নন্দ দুলালের ভিটা এলাকায় বন্যা পরবর্তী জেগে ওঠা চরে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন ছয় যুবক।

ফিরোজ ও আনিছুর নামের দুই যুবক ২২ বিঘা জমিতে কুমড়া চাষ করেছেন। পাশাপাশি মাহবুব, নুর আলম, আব্দুল খালেক ও রমজান আলী নামের আরও চার যুবক ৩৫ বিঘা জমিকে কুমড়া চাষ করেছেন।

সরেজমিনে, শনিবার (২৮ নভেম্বর) জগমনের চরের নন্দ দুলালের ভিটায় গিয়ে মিষ্টি কুমড়া চাষের চিত্র দেখা যায়। বালুচরে শত শত বিঘা জমিতে ছেয়ে গেছে মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত। ফলন ভালো হওয়ায় স্বপ্ন দেখছেন ছয় যুবক।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামের নয় উপজেলায় এবার চার হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে চার হাজার ৭৫ হেক্টর জমির শাক-সবজি। পাশাপাশি ২৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে।

jagonews24

জগমনের চর এলাকার তরুণ চাষি ফিরোজ ও আনিছুর জানান, আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ২২ বিঘা জমিতে সুইটি, ব্যাংকক-১, সেরা ও সোহাগী জাতের মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করেছেন তারা। প্রতি বিঘায় ১০ হাজার টাকা করে ব্যয় হয়েছে তাদের। ফলন ভালো হলে বিঘা প্রতি ২৫ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রি হবে।

একই এলাকার তরুণ চাষি মাহবুব, নুর আলম, আব্দুল খালেক ও রমজান আলী জানান, ৩৫ বিঘা জমিতে চার লাখ টাকা ব্যয়ে সুইটি, সোহাগী, সেরা, ছক্কা ও ব্যাংকক-১ জাতের মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করেছেন তারা। বীজ বপনের ৯০ দিন পর মিষ্টি কুমড়া বিক্রির উপযোগী হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও পোকার আক্রমণ থেকে মিষ্টি কুমড়া রক্ষা করতে পারলে ব্যাপক ফলন হবে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মিষ্টি কুমড়া চাষে পটাস, জিংক, টিএসপি এবং জৈবসার বা গোবর সার ১০ কেজি ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়। এছাড়া পোকার আক্রমণ থেকে কুমড়া রক্ষার জন্য চাষিরা যদি ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করেন তাহলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, মিষ্টি কুমড়া চাষে তেমন রোগ বালাই নেই। মিষ্টি কুমড়া পরাগায়নের অভাবে লালচে হয়ে পচে যায়। তাই কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। সারা বছর ধরে চাষিরা মিষ্টি কুমড়া চাষ করলেও রবি ও খরিপ-১ এ চাষ ভালো হয়। মিষ্টি কুমড়া সাধারণত বেলে মাটিতে চাষ করা হলেও বেলে-দোঁআশ মাটিতে এর চাষ সবচেয়ে ভালো হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও সঠিক পরিচর্যা পেলে এবার কুড়িগ্রামে মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলন হবে।

মো. মাসুদ রানা/এসএমএম/এএম/এমকেএইচ