বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় দুই শিক্ষকের জবানবন্দি
কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার মামলায় অভিযুক্ত মাদরাসার দুই শিক্ষক আল আমিন ও ইউসুফ আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (১২ ডিসেম্বর) কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক দেলোয়ার হোসেন তাদের জবানবন্দি নেন।
চার দিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেলা ২টায় তাদের আদালতে নেয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) নিশি কান্ত সরকার তাদের আদালতে নেন।
আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে ইউসুফ আলী ও আল আমিন আদালতকে জানিয়েছেন, তারা দুজনই কুষ্টিয়া শহরতলীর জুগিয়া এলাকার মাদরাসা ইবনে মাসউদে হেফজ বিভাগে শিক্ষকতা করেন। ওই বিভাগের ১৭ জন ছাত্র পড়াশোনা করে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত আবু বক্কর নাহিদ একই বিভাগের শিক্ষার্থী। ঘটনার দুই-তিন দিন আগে ইউসুফসহ আবু বকর ও নাহিদ দুজনই কুষ্টিয়া শহরে মার্কেটে যায়। মার্কেটে যাওয়ার পথে শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি তাদের নজরে পড়ে। গত ৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ভাস্কর্য ভাঙচুর করে তারা।
এরপর গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে আবু বক্কর ও নাহিদের যুক্ত থাকার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। পরে তাদের মাদরাসা থেকে নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ভাঙচুরের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ তাদের দেখালে অভিযুক্ত দুজনকে চেনা সত্ত্বেও স্বীকার করেননি।
অপর শিক্ষক আলামিন জবানবন্দিতে আদালতকে জানান, শিক্ষক আল আমিনসহ ওই মাদরাসার সবাই মোবাইল ব্যবহার করেন। মোবাইলে তারা নিয়মিত ওয়াজ শুনতেন। বিশেষ করে আলোচিত ইসলামী বক্তা মামুনুল হক, হাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী খালেদ সাইফুল্লাহ, আইয়ুবীসহ অন্যদের ওয়াজ শুনতে তাদের ভালো লাগতো।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত জানান, অভিযুক্ত দুই মাদরাসা শিক্ষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদের জড়িত থাকার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও তা প্রকাশ না করে বিষয়টি গোপন করেন। উল্টো তাদেরকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে অভিযুক্তদের মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ তাদের দুই শিক্ষককেও গ্রেফতার করে পুলিশ। অধিকতর তদন্তের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করতে রাজি হন।
প্রসঙ্গত, গত ৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে পৌরসভার উদ্যোগে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গত ৭
ডিসেম্বর পুলিশ কুষ্টিয়া শহরতলীর জুগিয়া এলাকার মাদরাসা ইবনে মাসউদে হেফজ বিভাগের দুই শিক্ষার্থী ওই দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গত ৮ ডিসেম্বর পুলিশ গ্রেফতার চারজনকে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হকের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক শুনানি শেষে মাদরাসার দুই শিক্ষার্থী আবু বক্কর ওরফে মিঠুন (১৯) ও সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদের (২০) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আদালত গ্রেফতার ওই মাদরাসার দুই শিক্ষক আল আমিন (২৭) ও ইউসুফ আলীর (২৬) চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রোববার (১৩ ডিসেম্বর) আবু বক্কর ওরফে মিঠুন ও সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সরাসরি অংশ নেয়া গ্রেফতার দুই শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের দায় স্বীকারসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
আল-মামুন সাগর/এমএসএইচ
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, দোকানির জরিমানা
- ২ গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের ১১৬ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে
- ৩ প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ফরিদপুরের স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান
- ৪ আদিবাসীদের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে কী আছে দেখতে চাই
- ৫ নোয়াখালীতে হিজড়া জনগোষ্ঠী ২ হাজার, ভোটার মাত্র ১৪