অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে কারাগারে দুই বাদী
ফেনীতে মিথ্যা মামলায় অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন বাদী নিজেই। যৌতুক মামলার বাদী রুপালী আক্তার ও প্রতারণা মামলার বাদী করিম হাজারীকে জেল ও জরিমানা করেছেন আদালত।
সোমবার (১১ জানুয়ারি) ফেনীর জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালত তাদের এ সাজা দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নিমাইলাল সূত্রধর।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর পারিবারিকভাবে সোনাগাজী উপজেলার রুপালী আক্তারের সঙ্গে আলাউদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর অন্য পুরুষের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলা নিয়ে রুপালী বেগমের সঙ্গে তার স্বামীর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গৃহবধূ রুপালী তার স্বামী আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি যৌতুক মামলা করেন। ওই মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণের পর আদালত আলাউদ্দিনকে খালাস দিয়ে তাকে কেন মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়েছে জানতে চেয়ে স্ত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
নোটিশের জবাবে রুপালী আক্তার নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চান। এরপর আদালত যৌতুক আইন ২০১৮-এর ৩ ধারায় হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার দায়ে ওই গৃহবধূকে চার হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।
এদিকে, আদালতের বেঞ্চ সহকারী সালাহ উদ্দিন জানান, ফেনী শহরের মাস্টার পাড়ার বাসিন্দা করিম উল্লাহ হাজারী তার প্রতিবেশী সুমনকে ফাঁসাতে ২০১৫ সালে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুরো মামলাটি মিথ্যা ও বানোয়াট মর্মে উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজ আহাম্মেদ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালতের বিচারক রাজেশ চৌধুরী আসামিকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করায় বাদী করিম হাজারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। করিম হাজারী সম্পূর্ণ জ্ঞাতার্থে মিথ্যা মামলা করে সুমনকে হয়রানি করায় আদালত তার পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।
রাশেদুল হাসান/এসজে