মুক্তিযোদ্ধা যাচাই কমিটি থেকে রাজাকারপুত্রকে অব্যাহতি
মোস্তাফিজুর রহমান ফারুককে জামুকার প্রতিনিধি করায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি পদ থেকে ‘রাজাকারপুত্র’ মোস্তাফিজুর রহমান ফারুককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে যুদ্ধকালীন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তাহেরকে সভাপতি পদে মনোনীত করা হয়।
রোববার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) পাঠানো চিঠিতে আবু তাহেরকে সভাপতি মনোনীত করার বিষয়টি জানানো হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শনিবার (২১ জানুয়ারি) আবু তাহেরের সভাপতিত্বে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের সভা হয়। এতে কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ও শরীফ উল্যাহ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সন্দেহভাজন ২১ মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে কমিটি। তবে তাদের সাক্ষ্য ও প্রমাণাদিতে কমিটি সন্তুষ্ট নয়। বিস্তারিত সাক্ষ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলেই তাদের পক্ষে প্রতিবেদন দেয়া হবে।
অন্যদিকে সারাদেশের মতো লক্ষ্মীপুরেও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরমধ্যে জেলার কমলনগর উপজেলায় শনিবার (৩০ জানুয়ারি) ২১ জনের যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। এ লক্ষ্যে জামুকা ২৫ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমানকে সভাপতি মনোনীত করে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে তালিকা পাঠায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে মোস্তাফিজুরকে ‘রাজাকারপুত্র’ আখ্যায়িত করে কমলনগর উপজেলা মুক্তিযেদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল কার্যালয়ে স্থানীয় কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবাদ সম্মেলন করেন। এনিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, নীতিমালা অনুযায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের উপজেলা কমিটিতে যুদ্ধকালীন কমান্ডার অথবা ভারতীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সভাপতি করার কথা রয়েছে। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমান সেই ক্যাটগরির কেউ নন। এমনকি তিনি একজন ‘বিতর্কিত’মুক্তিযোদ্ধা। তাছাড়া তার বাবা আব্দুল গফুর তহশিলদার শান্তি (পিস) কমিটির চেয়ারম্যান এবং রাজাকারদের সংগঠক। চাচা আব্দুল হালিমও রাজাকার ছিলেন। মূলত, রাজাকার বাবা ও চাচাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ‘গুপ্তচর’হিসেবে মোস্তাফিজ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে অনুপ্রবেশ করেন এবং মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যাও করেছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা। সম্মানহানির উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। রাজাকার ইস্যুতে আমার বাবার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও সত্য নয়।
এ প্রসঙ্গে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
যাচাই-বাচাই কমিটির নতুন সভাপতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরের বিষয়ে কারো কোনো আপত্তি নেই। যাদের অভিযোগ যাচাই-বাচাই হচ্ছে, তাদের মধ্যে আবু তাহেরের নাম নেই।
কাজল কায়েস/আরএইচ/এমএস