ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

প্রতিবন্ধী চাচার ১০ বিঘা জমি লিখে নিলেন ভাতিজা

জেলা প্রতিনিধি | বরগুনা | প্রকাশিত: ০৩:৪৬ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ঋণ নেয়ার কথা বলে প্রতিবন্ধী চাচার সই নিয়ে সমস্ত সম্পত্তি লিখে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এমদাদ হাওলাদার (৫৫)। তার ভাতিজা মো. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী এমদাদ হাওলাদার জানান, আমতলী উপজেলার ছোট নীলগঞ্জ গ্রামের আব্দুল গনি মাস্টার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে মারা যান। এরমধ্যে এমদাদ হাওলাদার সরকারি ভাতাভুক্ত মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। মৃত্যুর সময় গনি মাস্টার উত্তর টিয়াখালী মৌজায় ১৯৭, ২২৮, ৬৫ এবং ছোট নীলগঞ্জ মৌজায় ৬৭, ৬৯ খতিয়ানে ২৭ একর সম্পতি রেখে যান। পৈত্রিক সূত্রে প্রতিবন্ধী এমদাদ প্রায় ৩.৩০ একর (১০ বিঘা) সম্পত্তি পান।

এমদাদের স্ত্রী-সন্তান নেই। বাবার মৃত্যুর পরে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। তার ওই অসহায়ত্বের সুযোগে বড় ভাই চাঁন মিয়া মাস্টার তাকে আশ্রয় দেন এবং তার সমুদয় সম্পত্তি তিনি ভোগদখল করেন। বিনিময়ে তিনি প্রতিবন্ধী ভাইকে থাকা ও খাওয়ার সুযোগ করে দেন। ওই সময় থেকে বড় ভাইয়ের সংসারে কাজ করে দিনাতিপাত করেন তিনি।

২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে চাঁন মিয়া মাস্টারের ছেলে ফারুক হোসেন হাওলাদার প্রতিবন্ধী চাচা এমদাদকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার কথা বলে স্ট্যাম্পে সই নেন। ওই মাসের ২২ জানুয়ারি আমতলী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গোপনে ফারুক হোসেন হাওলাদার, তার মা হাসিনা বেগম ও বোন রাবেয়া আক্তারের নামে তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার ওমর ফারুককে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে সমস্ত জমি লিখে নেন। ওই দলিলে সাব-রেজিস্ট্রার দাতার উপস্থিতি নিশ্চিত ও সত্যতা যাছাই করেননি বলে অভিযোগ প্রতিবন্ধী দাতা এমদাদের স্বজনদের। তড়িঘড়ি করে ওই দলিলের কাজ সম্পন্ন করে দেন তিনি।

গত ৫ বছর ফারুকের এমন কর্মকাণ্ড গোপন থাকে। ইতোমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে তাদের নামে জমির রেকর্ড করেছেন। গত বুধবার ফারুক ওই জমি বিক্রির জন্য স্থানীয় একজনের সঙ্গে বায়নাপত্র করেন। ওই সময় এ বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। পরে প্রতিবন্ধী এমদাদ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

গত ৭ দিন ধরে এলাকার মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে এ ঘটনায় ফারুকের বিচার দাবি করছেন প্রতিবন্ধী এমদাদ। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ফারুকের শাস্তি ও জমির দলিল বাতিল করে প্রতিবন্ধী এমদাদের নামে জমি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এ বিষয়ে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন এমদাদ।

ওই গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ হাওলাদার, গোলাম মোস্তফা, জালাল হাওলাদার ও আমানুল বলেন, প্রতিবন্ধী এমদাদ জমি বিক্রি করে টাকা দিয়ে কী করবেন? তার তো কিছুই করার মতো সামর্থ্য ও জ্ঞান নেই। তার ভাইয়ের ছেলে ফারুক ঋণের কথা বলে সব জমি লিখে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভাতিজা ফারুক হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘আমার চাচা এমদাদ তার সব জমি আমার পরিবারের তিনজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। আমি কোনো জমি লিখে নেইনি।’

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তৎকালীন আমতলী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. ওমর ফারুকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলিলে দাতার উপস্থিত থাকতেই হবে। নইলে দলিল হবে না। নিশ্চয়ই দাতা উপস্থিত ছিল। ঘুষ নিয়ে দাতার উপস্থিতি ছাড়া দলিল করার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার মো. নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধী নিজে কখনোই জমি বিক্রি করতে পারবেন না। তার জমি বিক্রি করতে হলে তার পক্ষে আদালতের আদেশমতে প্রতিনিধি থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, ওই কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দাতার উপস্থিতি ছাড়া দলিল হওয়ার প্রশ্নই আসে না। যদি উপস্থিতি ছাড়া দলিল হয়ে থাকে আদালতে গেলে তিনি জমি ফিরে পাবেন।

এসআর/এএসএম