ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

করোনা ভীতি কাটিয়ে বান্দরবানে লাখো পর্যটক

জেলা প্রতিনিধি | বান্দরবান | প্রকাশিত: ১১:১৭ এএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

গত বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে বান্দরবানে তেমন পর্যটকের আগমন ঘটেনি। সে কারণে ব্যবসায়ীদের লোকসান বহন করতে হয়েছে অনেক বেশি। কিন্তু দেশে করোনার ভ্যাকসিন আসায় মানুষের মাঝে কেটেছে আতঙ্ক। তাই তিনদিনের ছুটিতে বান্দরবানের নীলাচল, মেঘলা, নীলগিরি ও শৈলপ্রপাতে দেখা গেছে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়।

পাহাড়, পর্বত, ঝর্ণা দেখার জন্য পর্যটকরা পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরছেন এদিক ওদিক। অনেকে আবার দলবেঁধে পাড়ি দিচ্ছেন গহীন জঙ্গলে। তাঁবু খাটিয়ে থাকছেন জঙ্গলে। আবার পর্যটকদের অনেকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে সন্ধ্যায় ফিরে যাচ্ছেন নিজ গন্তব্যে।

Tourist-(1).jpg

জেলার হোটেল মোটেল রিসোর্টগুলো এখন কানায় কানায় পূর্ণ। পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখে ব্যবসায় আবারও আশার আলো দেখছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা থেকে নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে আসা সৃজিতা পাল জানান, বান্দরবানে এবারই প্রথম আসা। চাঁদের গাড়ি দিয়ে পাহাড়ের আঁকা-বাঁকা পথে চলে যাওয়া সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। উঁচু নিচু অনেক পাহাড়, পাহাড়ের মাঝখানে ছোট ছোট ঘর আমাকে অনেক বেশি বিমোহিত করেছে। করোনার ভ্যকসিন এসেছে, তাই ভয় অনেকটা কেটে গেছে।

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে আসা মোহাম্মাদ জাকারুল ইসলাম জানান, অরণ্যে ঘেরা চারপাশ। দেখতে খুব ভালো লাগছে। মানুষও প্রচুর। ঝুলন্ত ব্রীজটা অনেক ভালো লেগেছে। এখানে উপভোগ করার অনেক কিছু আছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক জায়গা ঘুরতে পারিনি। ভ্যাকসিন আসায় এখন ভয় কাজ করছে না।

Tourist-(1).jpg

চট্টগ্রামের খাস্তগির সরকারি বালিকা উচ্চা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনি দাশ জানান, নীলাচল পাহাড় থেকে অনেক ছোট ছোট মন্দির দেখেছিল। ঝুলন্ত ব্রীজ দিয়ে আসতে একটু ভয় ভয় লাগছিল। এই জায়গাটা অনেক সুন্দর।

গত বছর জেলায় লকডাউন উঠে যাওয়ার পর শীত মৌসুমে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দিয়েও পর্যটক টানতে পারেনি আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীরা। লোকসান গুণতে হয়েছে অনেক বেশি। তাই ব্যবসায়ীদের অনেকে কর্মচারি ছাঁটাইয়ের মতো সিদ্ধান্তও নেন। কিন্তু এ সময় পর্যটকদের ঢল দেখে আবারও আশার দানা বাঁধছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রের টিকিট কালেক্টর সুকুমার চাকমা জানান, মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে। অনেক মাস পর পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে।

Tourist-(1).jpg

জেলা আবাসিক হোটেল সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ এক বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে পর্যটকরা ঘর থেকে বের হতে পারেনি। এখন করোনা পরিস্থিতি অনেক উন্নতি হয়েছে। ভ্যাকসিন আসায় জনমনে আতঙ্ক কেটে গেছে। প্রচুর সংখ্যক পর্যটক বান্দরবানে এসেছে। আমরা ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।

এদিকে নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে গেট থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় গতকাল। এছাড়াও জেলা সদরের মূল সড়কের পাশে পর্যটকদের ছোট বড় গাড়ির দীর্ঘলাইন দেখা যায়।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করা জেলা পুলিশ পরিদর্শক মো. আমিনুল হক জানান, ট্যুরিস্টদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যেকটা পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও যেখানে জনসমাগম হচ্ছে সেসব জায়গায় সিসি ক্যামরা স্থাপন করা হয়েছে যাতে কোনো অপরাধী অপরাধ করে পার পেয়ে যেতে না পারে।

এফএ/এমএস