ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বিএনপি-জামায়াতের দুই নেতার বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ০৩:৫১ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২১

বগুড়ার শেরপুরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বাড়িঘর ভাঙচুর ও অবৈধভাবে জায়গা দখলে নেয়ার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের দুই নেতার বিরুদ্ধে।

রোববার (২৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের মহিপুর কলোনি গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে সেলিম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ১৯৫২ সালে মহিপুর মৌজায় বাজার ও মহাসড়ক সংলগ্ন ১৬ শতক জায়গা সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই ভোগদখল করে আসছি। তবে মহিপুর বাজার এলাকায় মসজিদ না থাকায় ওই জায়গা থেকে তিন শতক জায়গা মসজিদের নামে দানপত্র দলিল করে দেই। পরবর্তীতে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের নিজ দখলীয় ২৬ শতক জমি থেকে আরও দুই শতক জমি মসজিদের নামে দেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৭০ বছর পর এসে মহিপুর বুড়িতলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের এসব জায়গার মধ্যে ১৭ শতক জমি দাবি করে বসেন। সেইসঙ্গে তিনিও মসজিদের নামে পাঁচ শতক জমি দান দেখিয়ে বাকি ১২ শতক জমি দখলের পরিকল্পনা করেন।

তিনি আরও বলেন, গাড়ীদহ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বাবলু মিয়া ও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আব্দুস সাত্তারকে ওই পরিমাণ জমি দখল করে দেয়ার জন্য দায়িত্ব দেন। এরপর থেকে এই দুই নেতা ও তাদের বাহিনীর সদস্যরা একজোট হয়ে তাদের মালিকানাধীন জায়গা দখলের নানামুখী তৎপরতা শুরু করেন। শেষপর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হই। জীবনের নিরাপত্তাসহ জায়গা রক্ষার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করি। পরে আদালত আমাদের সব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে স্থিতিতাবস্থা বহালসহ ওই জায়গার ওপর ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করেন।

সেলিম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন বিএনপি নেতা বাবলু মিয়া ও জামায়াত নেতা আব্দুস সাত্তার। এমনকি এই দুই নেতার নেতৃত্বে ১০০ থেকে ১৫০ জন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। সেইসঙ্গে বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা প্রাচীরও ভেঙে ফেলা হয়।

তিনি আরও বলেন, সংঘবদ্ধ এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছেন। কিন্তু ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। তারা নির্বিঘ্নে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসার নাম ভাঙিয়ে একের পর এক জায়গা দখল করেই চলেছেন।

বিগত কয়েকমাস আগেই মহিপুর কলোনি জামে মসজিদের প্রায় ৭৯ শতক জায়গা ও স্থানীয় বাজার মার্কেটের দোকানপাট ভাঙচুর করে জায়গা দখলে নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বাবলু মিয়া ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আব্দুস সাত্তার।

তারা মোবাইল ফোনে জাগো নিউজকে বলেন, আদালতের কোনো নির্দেশনা তারা ভঙ্গ করেননি। কেননা আদালত সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন মর্মে কোনো কাগজপত্র পাননি।

এই দুই নেতার পাল্টা অভিযোগ, গুজব রটিয়ে মসজিদ ও মাদরাসার জায়গা অবৈধভাবে দখলে রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার কোনো চেষ্টাই সফল হতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তারা।

এসআর/জেআইএম