ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা

বেনাপোল (যশোর) | প্রকাশিত: ১০:১১ পিএম, ১৯ জুলাই ২০২১

ভারতে চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে যশোর প্রশাসন। স্থানীয় চামড়া যাতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার হাট যশোরের রামনগর আসে সে বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নজরদারিতে আনা হয়েছে বন্দর এলাকাসহ স্থল ও রেলপথ।

এদিকে কোরবানির চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে এরইমধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও পুলিশ প্রশাসন, বিজিবিসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, এবছর ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। আর ঢাকার বাইরে চামড়ার দাম ৩৩-৩৭ টাকা। অপরদিকে ছাগলের চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫-১৭ টাকা প্রতি বর্গফুট। ভারতে চামড়ার দাম বরাবরই বেশি। ফলে সীমান্ত পথে চামড়া পাচারের প্রবণতা রয়েছে। গতবার ঈদে চামড়ার কোনো দাম ছিল না। অনেকে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে নদীতে, হাটবাজার ও সড়কে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনাপোল ও শার্শার পুটখালী, গোগা, কায়বা, অগ্রভুলোট, রুদ্রপুর, দৌলতপুর, গাতিপাড়া, ঘিবা, সাদিপুর, বড় আঁচড়া, কাশিপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

jagonews24

সূত্র আরও জানায়, খুচরা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া কিনে মজুত করে রাখছেন। তারা স্থানীয় বাজারে চামড়া না তুলে নিজস্ব কায়দায় তা সংরক্ষণ করছেন। দেশের বাজারে দাম কম হওয়ায় এ চামড়া বাংলাদেশে রাখা সম্ভব হবে কি-না তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

চামড়া ব্যবসায়ীদের মতে, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের পশুর চামড়ার গুণগত মান উন্নত। প্রতিবেশী দেশের পশুর চামড়া তুলনামূলক নিম্নমানের হওয়ায় এ দেশের পশুর চামড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে সেখানে। চোরাকারবারিরা প্রতিবেশী দেশে চামড়া পাচার করে ওই অর্থ দিয়ে ভারত থেকে অন্যান্য মালামাল কিনে আনার চেষ্টায় থাকেন। কোরবানি ঈদের সময় পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়া হলে পাচারের প্রবণতা কমে। পাশাপাশি স্বস্তিতে থাকেন ব্যবসায়ীরাও।

খুলনা ২১ ও যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মুনজুর এলাহী ও লে. কর্নেল সেলিম রেজা বলেন, সীমান্ত দিয়ে ভারতে চামড়া পাচার রোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবি পোস্টে কড়া নজরদারি রাখা হবে। যাতে কেউ ভারতে চামড়া পাচার করতে না পারে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।

যশোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) তমিজুল ইসলাম খান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া বিক্রি করা যাবে না। হাটে বেচাকেনা করার সময় ওই সড়কে পরিবহন চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে- সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

জামাল হোসেন/এসএমএম/এএসএম