কারখানায় শ্রমিক বেড়েছে, সোমবার শতভাগ হবে
করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রোববার (১ আগস্ট) থেকে শিল্পকারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। নানা দুর্ভোগ পার হয়ে শনিবার (৩১ জুলাই) নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরেছেন গাজীপুরের বেশিরভাগ পোশাক শ্রমিক। রোববারও অনেকে ফিরছেন কর্মস্থলে। কাউকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে দেখা যায়নি।
রোববার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, চান্দনা চৌরাস্তা ও কালিয়াকৈরের চন্দ্রা দিয়ে গাজীপুর এবং ঢাকায় প্রবেশ করছে বিভিন্ন জেলার মানুষ। সড়কে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলছে বাস। এতে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। অনেকের মুখে নেই কোনো মাস্ক।
কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের প্রায় ৮৫ ভাগ শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। সোমবারের মধ্যে শতভাগ শ্রমিক কাজে যোগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

রংপুর থেকে আসা পোশাক শ্রমিক শাহিনা আক্তার জানান, পারিবারিক সমস্যার কারণে শনিবার কর্মস্থলে পৌঁছতে পারেননি। রোববার (১ আগস্ট) সকালে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে গাজীপুরের চৌরাস্তা পর্যন্ত এসেছেন।
হালুয়াঘাট থেকে আসা পোশাক শ্রমিক নাজমুল হাসান জানান, বাড়িতে তার মা করোনা আক্রান্ত থাকায় শনিবার ফিরতে পারেননি। বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা সোমবারের মধ্যে কর্মস্থলে যোগ দিতে বলেন। তাই বাধ্য হয়ে অসুস্থ মাকে রেখেই চাকরি বাঁচাতে ফিরে এসেছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাক কারখানার চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোটি টাকার অর্ডার বাতিল হওয়ার আশঙ্কায় অনেকটা বাধ্য হয়েই কারখানা খুলে দিতে হয়েছে। তা না হলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেয়াও সম্ভব হতো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোমবারের (২ আগস্ট) মধ্যে শতভাগ শ্রমিক কাজে যোগ দেবেন বলে আশা করছি। স্বাস্থ্যবিধি যথাসম্ভব মেনে চলা হচ্ছে।’
কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর গোলাম ফারুক বলেন, পোশাক কারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণার পর মানুষ নানা উপায়ে তাদের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। যানবাহন না থাকায় হেঁটেই যাচ্ছে। শনিবারের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা কম।
চান্দনা চৌরাস্তায় মেট্রোপলিটনের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক বিভাগ) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘কারখানা খুলে দেয়ার কারণে বিভিন্ন উপায়ে শহরে প্রবেশ করছেন শ্রমিকরা। তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।’
মো. আমিনুল ইসলাম/এসজে/জেআইএম