ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

১৫ বছরেও চালু হয়নি হাসপাতাল, খুলে পড়ছে দরজা-জানালা

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ১০:৪২ এএম, ২৯ আগস্ট ২০২১

বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌর শহরে নির্মাণের ১৫ বছরেও পুরোপুরি চালু হয়নি ২০ শয্যার হাসপাতাল। তিনজন দিয়ে কোনোরকম চলছে বহির্বিভাগ। এতে বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে লাখ লাখ টাকার যন্ত্র। খুলে পড়ছে দরজা-জানালা। কবে নাগাদ হাসপাতাল চালু হবে নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কেউই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১-২০০২ অর্থবছরে বিএনপির আমলে পৌর শহরে ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে (নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিট-সিএমএমইউ) হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

২০০৫ সালে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হয়। জনবল নিয়োগ ছাড়াই ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা।

২০০৮ সালে ওই হাসপাতালের জন্য ১৮টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এর মধ্যে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, ছয়জন চিকিৎসক, পাঁচজন নার্স, একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন ল্যাব সহকারী। কিন্তুর দীর্ঘ ১৫ বছরেও জনবলের অভাবে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, হাসপাতালটি নির্মাণে সরকারের সাড়ে তিন কোটির বেশি টাকা খরচ হলেও চালু না হওয়ায় তা এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। ব্যবহার না করায় হাসপাতালের বিছানা ও আসবাবপত্রে ধুলাবালুর আস্তরণ জমেছে। ঘুণপোকা বাসা বাঁধায় খুলে পড়ছে ভবনের দরজা-জানালা। লোকবলের অভাবে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি নষ্ট হয় যাচ্ছে।

jagonews24

এছাড়া নন্দীগ্রাম পৌরসভার আশপাশের লক্ষাধিক মানুষের জন্য হাসপাতাল নেই। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বিজরুল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা ৪০ কিলোমিটার দূরে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয় তাদের। হাসপাতালটি চালু হলে দুর্ভোগ কমে আসবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

বর্তমানে ২০ শয্যা হাসপাতালে একজন মেডিকেল অফিসার ও প্রেষণে একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা এবং একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে বহির্বিভাগ।

চিকিৎসা নিতে আসা রুহি বেগম বলেন, গরীব মানুষ টেকার অভাবে বগুড়া যাবার পারিচ্চি না। ওষুধ কিনবার পারিচ্চি না। পায়ের বেদনা (ব্যথা) লিয়ে এটি অ্যানো, সাদা সাদা বড়ি ছাড়া কিছুই দিল না।

কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা কাজী ফজলে রাব্বী সিহাব বলেন, প্রতিদিন এখানে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া রোগীদের কোনো সেবা দেয়া যায় না।

জানতে চাইলে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল বলেন, লোকবলের অভাবে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যাচ্ছে না। জনবল চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওটিসহ মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, নন্দীগ্রাম ২০ শয্যা হাসপাতালটি চালু করার বিষয়ে অনেকবার সংসদে কথা বলেছি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নোট করেছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সবাই ব্যস্ত। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই বিষয়গুলো দেখা হবে।

এসজে/জিকেএস