ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

অতিরিক্ত মাদক সেবনে বন্ধুর মৃত্যু, দায় এড়াতে মরদেহ গুম

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ০৪:১৬ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় দুই বন্ধু একসঙ্গে বসে মাদক সেবন করেছিলেন। মাদকের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে মারা যান একজন। দায়ভার এড়াতে মরদেহ গুম করে অপহরণের নাটক সাজান অপর বন্ধু। কিন্তু রক্ষা হয়নি। পুলিশের হাতে ধরার পরার পর বেড়িয়ে আসে আসল ঘটনা।

গ্রেফতার সেই বন্ধুর নাম হারুন অর রশিদ (৩৪)। তিনি উপজেলার ইসলামপুর খাঁ পাড়ার বাসিন্দা। পেশায় তিনি অটোরিকশা চালক। অন্যদিকে মাদক সেবনে মারা যাওয়া তার বন্ধু একই এলাকার কৃষক হুমায়ূন কবির (৩৫)।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার বাড়ির পাশের ডোবা থেকে হুমায়ুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে রাতেই হারুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তিনি পুলিশের কাছে এ ঘটনা স্বীকার করেছেন।

এসপি বলেন, গত শনিবার রাতে বাজারে আড্ডা দেওয়ার কথা বলে বের হন হুমায়ুন কবির। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন রোববার হুমায়ুনের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে তার বাবার কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপরিচিত ব্যক্তি। সোমবারেও ফোন করে কয়েক দফায় মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হারুনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, শনিবার রাতে তারা দু’জন অটোরিকশায় করে মাদকদ্রব্য কিনতে দুপচাঁচিয়া উপজেলা শহরে আসেন। হারুনের বাড়িতে কেউ না থাকায় সেখানে বসে মাদকদ্রব্য ও ড্রাইডিল ট্যাবলেট একসঙ্গে সেবন করতে থাকেন। একপর্যায়ে হুমায়ূন কবির মারা যান।

হুমায়ুনের মৃত্যুতে দোষ নিজের কাঁধে আসবে ভেবে হারুন ঠিক করে মরদেহ গুম করেন। এ ভাবনা থেকে নিজ বাড়িতে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় মরদেহ তুলে রাখেন। পরে সুযোগ বুঝে এলাকার একটি ডোবায় বস্তাবন্দী হুমায়ুনের মরদেহের সঙ্গে ইট বেঁধে ফেলে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী, (অপরাধ) আব্দুর রশিদ, (সদর সার্কেল ও মিডিয়া মুখপাত্র) ফয়সাল মাহমুদ, (সদর হেডকোয়ার্টার) হেলেনা আক্তার, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আদমদীঘি সার্কেল নাজরান রউফ ও দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরএইচ/এএসএম