EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জেলা পরিষদের নিয়োগে ১০ লাখ টাকা উৎকোচ চাওয়ার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০২১

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে নিয়োগে উৎকোচ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে জানাজানি হলে অনিবার্য কারণের কথা উল্লেখ্য করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে একজন, অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) পদে দুজন ও নৈশ প্রহরী পদে একজনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. মঈন উদ্দিন, সিভিল সার্জনের একজন প্রতিনিধি, জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব হিসেবে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ৫৪জন, অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) পদে ৭৪জন ও নৈশ প্রহরী পদে ১১জন আবেদন করেন।

২২ নভেম্বর নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ৩৬জন এবং অফিস সহায়ক পদে ৫৪জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষার পর অনিয়মের অভিযোগে তুলেন জেলা পরিষদের সদস্য আইয়ুব আলী। পরে ২৪ নভেম্বর অনিবার্য কারণ উল্লেখ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেন নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নিয়োগ কমিটির প্রধান আমিনুল ইসলাম।

জেলা পরিষদের সদস্য আইয়ুব আলী বলেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার পদে এক প্রার্থীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। ওই প্রার্থী তিন লাখ টাকা দিতে চাইলে তিনি রাজি হননি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে একাই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আলাদা কমিটি আছে। ওই কমিটিতে বা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমি নেই। এ কমিটিতে যারা আছেন তারা বিষয়টি বলতে পারবেন।

নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, আপাতত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। অনিবার্যকারণ বশত নিয়োগ স্থগিত করা হয়।

নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আমিনুল ইসলাম বলেন, নিয়োগের পরিষদের একজন সদস্য তার এক প্রার্থীকে চাকরি দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু আমরা নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে চেয়েছিলাম। পরে তিনি নানা অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীরাও অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইছেন। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও আমি তিনজন মিলে প্রশ্ন তৈরি করেছি। টাকার অভিযোগ সত্য না।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/এএসএম