যুবককে অপহরণের পর ছবি-ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি
শিকলে বেঁধে রাখা হয় অপহৃত নোমান মিয়াকে
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কাজে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নোমান মিয়া (২১) নামে এক যুবককে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে। মেসেজিং অ্যাপ ইমোতে ওই যুবকের ছবি ও মারধরের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে দুর্গাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অপহৃত নোমানের বাবা শুক্কর আলী। তবে মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত ওই যুবকের কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার। অপহৃত নোমান বাকলজোড়া ইউনিয়নের পাটলী গ্রামের মো. শুক্কর আলীর ছেলে।
নোমানের বাবা শুক্কর আলী বলেন, ‘আমার ছেলে তার স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী এলাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। সে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। ওইদিন বিকেলে প্রতিবেশী আমরুজ আলীর ছেলে বাদশা মিয়া (৩২) কাজ দেওয়ার কথা বলে তাকে ফেনীতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমার ছোট মেয়ে নুরজাহানের মোবাইলে নোমানকে অপহরণের কথা জানিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়।
শুক্কর আলী আরও বলেন, মুক্তিপণের টাকা দিতে ইমোর মাধ্যমে নোমানকে শিকলে বাঁধা ছবি এবং তাকে মারধরের একটি ভিডিও আমার বড় ছেলে শামীমের মোবাইলে পাঠায়।

দুর্গাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মীর মাহবুব জাগো নিউজকে বলেন, অপহৃত যুবকের ঘটনাস্থল ফেনী হলেও নিজ বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলার পাটলী গ্রামে। অভিযোগ পাওয়ার পর অপহৃত যুবককে উদ্ধারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর সার্কেলের সিনিয়র পুলিশ সুপার মাহমুদা শারমিন নেলী জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থল অন্য জায়গা হওয়ায় অনেকটা জটিলতা রয়েছে। মুক্তিপণদাতার মোবাইল ফোনের লোকেশন নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে অপহৃত যুবককে উদ্ধারে সহযোগিতা করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সি জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ওই যুবককে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছি। আশা করছি খুব দ্রুত তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হবো।
এইচ এম কামাল/এসজে/জেআইএম