মোংলা বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ
মোংলা পৌরশহরের প্রধান মাছের বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির শাপলাপাতা মাছ
মোংলা পৌরশহরের প্রধান মাছের বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির শাপলাপাতা মাছ। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) সকাল থেকে বাজারে এ মাছ কেটে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।
বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন উপকূলের নদ-নদীতে বিলুপ্ত প্রজাতির এ মাছ শিকার ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপরও অনেকেই এ নিষেধাজ্ঞা মানছেন না।
স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও বনবিভাগের নীরব ভূমিকায় অবাধে শাপলাপাতা মাছ আহরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন হচ্ছে। তবে শাপলাপাতা মাছ শিকার ও বিক্রি যে নিষিদ্ধ তা জানেন না বলছেন বিক্রেতারা।
মোংলা পোর্ট পৌরসভা মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আফজাল ফরাজি ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই সাগর থেকে জেলেরা শাপলাপাতা মাছ বাজারে আনছেন। এ মাছ ধরা বা বিক্রি যে নিষিদ্ধ তা আমরা জানি না। আমাদের কেউ কখনো বলেননি। সাগর থেকে এ মাছ শিকার করে নদীপথে আনার সময় বনবিভাগের কর্মকর্তারাও বাঁধা দেন না।’
এ বিষয়ে পশ্চিম বনবিভাগ খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো জাগো নিউজকে বলেন, ‘মূলত প্রচার-প্রচারণার অভাবেই কেউ জানেন না যে শাপলাপাতা মাছ শিকার ও বিক্রি করা নিষিদ্ধ। এখন থেকে মাইকিং করে সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হবে।’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘সাগরে দিনের পর দিন এভাবে নিধন চলতে থাকলে একসময় শাপলাপাতা মাছ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’
শাপলাপাতা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম স্টিং রে ফিশ। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) শাপলাপাতা মাছকে বিপণ্নপ্রায় প্রজাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ সালের আইন অনুযায়ী এ মাছ শিকার ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এসআর/জেআইএম